Posts filed under ‘1’

সুরা আল-ফাতিহা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রথমে প্রশংসা করছি আল্লাহ সুবহানাতা’আলার,যিনি অসীম দয়াময় ও করুনার ভান্ডার।

লিখায় কোন ভুল হলে আল্লাহ-গাফুরুর রাহিমের দরবারে ক্ষমা প্রার্থী।

সূরা ফাতিহা আসলে একটি দোয়া ৷ তবে যে সত্তার কাছে আমরা প্রার্থনা করতে চাচ্ছি তাঁর প্রশংসা বাণী দিয়ে দোয়া শুরু করা হচ্ছে ৷ এভাবে যেন দোয়া চাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দেয়া হচ্ছে ৷ অর্থাৎ দোয়া চাইতে হলে ভদ্র ও শালীন পদ্ধতিতে দোয়া চাইতে হবে ৷ কারো সামনে গিয়ে মুখ খুলেই প্রথমে নিজের প্রয়োজনটা পেশ করে দেয়া কোন সৌজন্য ও ভব্যতার পরিচায়ক নয় ৷ যার কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে প্রথমে তার গুণাবলী বর্ণনা করা এবং তার দান, অনুগ্রহ ও মর্যাদার স্বীকৃতি দেয়াই ভদ্রতার রীতি ৷

সুরা আল ফাতিহা

১.আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন।
প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি জগত সমুহের রব (প্রতিপালক)

সমস্ত প্রশংসা তো তারই যিনি স্ ষ্টি করেছেন ও প্রতিপালন করছেন এই আসমান জমিন ও তার মধ্যবতী সবকিছু। অনু-পরমানু থেকে শরু করে এই সৌরজগত-গ্যলাক্সী-ছায়াপথ সমুহ।
আমি এখানে দৃষ্টি আকষন করতে চাই জ্ঞানীদের,এখানে কিন্তু বলা হয়েছে “জগত সমুহ”।অর্থাৎ সামান্য পরমানু জগত (যার আছে নিউক্লিয়াস,ইলেকট্রন,প্রোটন) থেকে শুরু করে আমাদের এই সৌ্রজগতের মত লক্ষ-কোটি সৌরজগত,এক কথায় পুরো বিশ্ব জগত।
প্রতিপালন বলতে কি বুঝায়? বাসস্থান দান করা, জীবিকার ব্যবস্থা করা, প্রতিরক্ষা করা ইত্যাদি,এক কথায় আমাদের অস্তিত রক্ষার সব ব্যবস্থা করে দেয়া। আমি একটি ছোট উদাহরন দিতে চাই, “তিনি আমাদের জন্য আকাশ কে করে দিয়েছেন মজ বুত ছাঁদ”

প্রতি মুহুর্তে কত উল্কা পিন্ড,ক্ষতিকর রশ্মি ও জীবন ধবংসকারী উপাদান আমাদেরকে রক্ষা করছে তার কোন হিসাব নেই। এক মুহুরতের জন্য যদি এই “মজবুত ছাঁদ” দুর্ব্ ল হয়ে যেত তাহলে উল্কা বা অন্য ক্ষতিক র পদার্থ / রশ্মির আঘাতে আমাদের ধবংস হতে কয়েক মহুর্ত লাগতো মাত্র। অথচ কার দয়ায় আম রা এত কিছু যে ঘটে যাচ্ছে তা বিন্দু মাত্র টের পাইনা।কে আমাদেরকে এত দ্য়া দিয়ে প্রতিপালন করছেন,রিজিক দিচ্ছেন,থাকার সু-ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন? সমস্ত প্রশংসা তার একমাত্র তার জন্য নয় কি?

২. আর রাহমানির রাহিম।
যিনি পরম দয়ালু ও করুণাময়

মানুষের দৃষ্টিতে কোন জিনিস খুব বেশী বলে প্রতীয়মান হলে সেজন্য সে এমন শব্দ ব্যবহার করে যার মাধ্যমে আধিক্যের প্রকাশ ঘটে ৷ আর একটি আধিক্যবোধক শব্দ বলার পর যখন সে অনুভব করে যে ঐ শব্দটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জিনিসটির আধিক্যের প্রকাশ করা সন্ভব হয়নি তখন সে সেই একই অর্থে আর একটি শব্দ ব্যবহার করে ৷ এভাবে শব্দটির অন্তরনিহিত গুণের আধিক্য প্রকাশের ব্যাপারে যে কমতি রয়েছে বলে সে মনে করছে তা পূরণ করে৷ আল্লাহর প্রশংসায় ‘রহমান’ শব্দের পরে আবার ‘রহীম’ বলার মধ্যেও এই একই নিগূঢ় তত্ত্ব নিহিত রয়েছে ৷ আরবী ভাষায় ‘রহমান’ একটি বিপুল আধিক্যবোধক শব্দ ৷ কিন্তু সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর রহমত ও মেহেরবানী এত বেশী ও ব্যাপক এবং এত সীমাসংখ্যাহীন যে, তা বয়ান করার জন্য সবচেয়ে বেশী ও বড় আধিক্যবোধক শব্দ ব্যবহার করার পরও মন ভরে না ৷ তাই তার আধিক্য প্রকাশের হক আদায় করার জন্য আবার ‘রহীম’ শব্দটিও বলা হয়েছে ৷ এর দৃষ্টান্ত এভাবে দেয়া যেতে পারে, যেমন আমরা কোন ব্যক্তির দানশীলতার গুণ বর্ণনা করার জন্য ‘দাতা’ বলার পরও যখন অতৃপ্তি অনুভব করি তখন এর সাথে ‘দানবীর’ শব্দটিও লাগিয়ে দেই৷ রঙের প্রশংসায় ‘সাদা’ শব্দটি বলার পর আবার ‘দুধের মতো সাদা’ বলে থাকি ৷

একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় কত দয়া ও করুনার ভান্ডার তিনি, প্রতি মুহুর্তে আমরা অসংখ্য নিয়ামত উপভোগ করছি তার।তার দেয়া আলো-বাতাস-পানি-অক্সিজেন-তাপ সহ আরো অনেক অনেক গুরুত্তপুর্ন নিয়ামত যা আমরা নির্বিচারে উপভোগ করছি। এক মুহুর্তের জন্য যদি এসব নিয়ামত বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কি হবে একবারো কি চিন্তা করে দেখেছি?

৩.মালিক ইয়াও মিদ্দিন
প্রতিদান দিবসের মালিক

অর্থাৎ যেদিন মানবজাতির পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত বংশধরদেরকে একত্র করে তাদের জীবনের সমগ্র কর্মকান্ডের হিসেব নেয়া হবে ৷ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার পূর্ন কর্মফল দেয়া হবে ৷ তিনি সেই দিনের একচ্ছত্র অধিপতি , আল্লাহর প্রশংসায় রহমান ও রহীম শব্দ ব্যবহার করার পর তিনি প্রতিদান দিবসের মালিক একথা বলায় এখান থেকে এ অর্থও প্রকাশিত হয় যে, তিনি নিছক দয়ালু ও করুণাময় নন বরং এই সংগে তিনি ন্যায় বিচারকও ৷ আবার তিনি এমন ন্যায় বিচারক যিনি হবেন শেষ বিচার ও রায় শুনানীর দিনে পরিপূর্ণ ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের মালিক সেদিন তিনি শাস্তি প্রদান করলে কেউ তাতে বাধা দিতে পারবে না ৷ এবং পুরস্কার দিলেও কেউ ঠেকাতে পারবে না ৷ কাজেই তিনি আমাদের প্রতিপালন করেন ও আমাদের প্রতি করুণা করেন এ জন্য যে আমরা তাঁকে ভালোবাসি শুধু এতটুকুই নয় বরং তিনি ইনসাফ ও ন্যায় বিচার করেন এ জন্য আমরা তাঁকে ভয়ও করি এবংএই অনুভূতিও রাখি যে , আমাদের পরিণামের ভালো মন্দ পুরোপুরি তাঁরই হাতে ন্যস্ত ৷

৪.ইয়্যা কানা’আবুদু ওয়া ইয়্যা কানাস তাঈন
আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদাত করি এবং একমাত্র তোমারই কাছে সাহায্য চাই

ইবাদাত শব্দটিও আরবী ভাষায় তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ৷ (১)পূজা ও উপাসনা করা , (২)আনুগত্য ও হুকুম মেনে চলা এবং (৩) বন্দেগী ও দাসত্ব করা ৷ এখানে একই সাথে এই তিনটি অর্থই প্রকাশিত হয়েছে ৷ অর্থাৎ আমরা তোমার পূজা-উপাসনা করি , তোমার আনুগত্য করি এবং তোমার বন্দেগী ও দাসত্বও করি ৷ আর আমরা তোমার সাথে এ সম্পর্কগুলো রাখি কেবল এখানেই কথা শেষ নয় বরং এ সম্পর্কগুলো আমরা একমাত্র তোমারই সাথে রাখি ৷ এই তিনটি অর্থের মধ্যে কোন একটি অর্থেও অন্য কেউ আমাদের মাবুদ নয় ৷

তোমার সাথে আমাদের সম্পর্ক কেবল ইবাদাতের নয় বরং আমাদের সাহায্য প্রার্থনার সম্পর্কও একমাত্র তোমারই সাথে রয়েছে ৷ আমরা জানি তুমিই সমগ্র বিশ্ব-জাহানের রব ৷ সমস্ত শক্তি তোমারই হাতে কেন্দ্রভূত ৷ তুমি একাই যাবতীয় নিয়ামত ও অনুগ্রহের অধিকারী ৷ তাই আমাদের অভাব ও প্রয়োজন পূরণের জন্য আমরা একমাত্র তোমারই দুয়ারে ধর্ণা দেই ৷ তোমারই সামনে নিজেদের সুপর্দ করে দেই এবং তোমারই সাহায্যের ওপর নির্ভর করি ৷ এ জন্য আমাদের এই আবেদন নিয়ে আমরা তোমার দুয়ারে হাজির হয়েছি ৷

৫.ইহ দিনাছ ছিরাতুল মুস্তাকীম
তুমি আমাদের সোজা পথ দেখাও,

অর্থাৎ জীবনের প্রত্যেকটি শাখা প্রশাখায় এবং প্রত্যেকটি বিভাগে, চিন্তা, কর্ম ও আচরণের এমন বিধি-ব্যবস্থা আমাদের শেখাও , যা হবে একেবারেই নির্ভুল , যেখানে ভুল দেখা , ভুল কাজ করা ও অশুভ পরিণামের আশংকা নেই, যে পথে চলে আমরা সাফল্য ও সৌভাগ্যের অধিকারী হতে পারি ৷ কুরআন অধ্যয়নের প্রাক্কালে বান্দা তার প্রভু , মালিক, আল্লাহর কাছে এই আবেদনটি পেশ করে ৷ বান্দা আর্জি পেশ করে , হে আল্লাহ! তুমি আমাদের পথ দেখাও ৷ কল্পিত দর্শনের গোলকধাঁধার মধ্য থেকে যথার্থ সত্যকে উন্মুক্ত করে আমাদের সামনে তুলে ধর ৷ বিভিন্ন নৈতিক চিন্তা-দর্শনের মধ্য থেকে যথার্থ ও নির্ভুল নৈতিক চিন্তা-দর্শন আমাদের সামনে উপস্থাপিত কর ৷ জীবনের অসংখ্য পথের মধ্য থেকে চিন্তা ও কর্মের , সরল ও সুস্পষ্ট রাজপথটি আমাদের দেখাও ৷

৬.ছিরাতোয়াল্লাজীনা আন আমতা আলাইহিম
তাদের পথ যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ

মহান আল্লাহর কাছ থেকে আমরা যে সোজা পথটির জ্ঞান লাভ করতে চাচ্ছি এটা হচ্ছে তার পরিচয় ৷ অর্থাৎ এমন পথ যার ওপর সবসময় তোমার প্রিয়জনেরা চলেছেন ৷ সেই নির্ভুল রাজপথটি অতি প্রাচীনকাল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত যে ব্যক্তি ও যে দলটিই তার ওপর চলেছে সে তোমার অনুগ্রহ লাভ করেছে এবং তোমার দানে তার জীবন পাত্র পরিপূর্ণ হয়েছে ৷

৭.গইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দো-য়া ল্লী-ন
যাদের ওপর গযব পড়েনি এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়নি ৷

অর্থাৎ ‘অনুগ্রহ’ লাভকারী হিসাবে আমরা এমন সব লোককে চিহ্নিত করিনি যারা আপাতদৃষ্টিতে সাময়িকভাবে তোমার পার্থিব অনুগ্রহ লাভ করে থাকে ঠিকই কিন্তু আসলে তারা হয় তোমার গযব ও শাস্তির অধিকারী এবং এভাবে তারা নিজেদের সাফল্য ও সৌভাগ্যের পথ হারিয়ে ফেলে ৷ এ নেতিবাচক ব্যাখ্যায় একথা সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে , ‘অনুগ্রহ’ বলতে আমরা যথার্থ ও স্থায়ী অনুগ্রহ বুঝাচ্ছি , যা আসলে সঠিক পথে চলা ও আল্লাহর সন্তোষ লাভের ফলে অর্জিত হয় ৷ এমন কোন সাময়িক ও লোক দেখানো অনুগ্রহ নয়, যা ইতিপূর্বে ফেরাউন , নমরূদ ও কারূনরা লাভ করেছিল এবং আজো আমাদের চোখের সামনে বড় বড় যালেম , দুস্কৃতিকারী ও পথভ্রষ্টরা যেগুলো লাভ করে চলেছে ৷

সূরাটির গুরুত্ব এবং ফজিলতঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসুলে করীম (সঃ) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ নামাজ আমার ও বান্দার মধ্যেআধা-আধি ভাগ করা হয়েছে এবং আমার ও বান্দার ভাগে তা’ই হবে য সে চাইবে। বান্দাহ যখন ‘আল্-হামদু-লিল্লাহে রাব্বিল আ’লামীম’ বলে, তখন আল্লাহবলেনঃ আমার বান্দাহ আমার প্রশংসা করেছে। যখন সে বলে, ‘আর-রাহমানীর রাহীম’ তখন আল্লাহ বলেন, সে আমার গুণ বর্ণনা করেছে। যখন সে বলে‘মালিকি-ইয়াও-মিদ্দিন’ তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দাহ আমার শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহত্ম বর্ণনা করেছে। যখন সে ‘ইয়্যাকা’বুদু অ-ইয়্যাকা নাস্তাইন বলে,তখন আল্লাহ বলেন, যে এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যের পারস্পরিক ব্যাপার। আমার বান্দাহ তা সবই পাবে যা চেয়েছে। এর পর যখন সে সুরার শেষ অংশ (ইহদিনন হতে দ’য়ল্লীন পর্যন্ত) পড়ে তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার ও বান্দার জন্য বিশেষ ভাবে নির্দিষ্ট এবং আমার বান্দা যা কিছু চায় তাকে তা সবই দেয়া হবে। (সহিহ আল মুসলিম)
আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই সুরাকে একটি গুরুত্তপুর্ন দোয়া হিসাবে গ্রহন করা। তিনি আমাদের কে “সিরাতুল মুস্তাকিম” বা সহজ সরল পথে চালিত করুন।

(http://www.islam.net.bd/index.php?option=com_tov&task=showSurah&surahId=1) থেকে মুল অংশ নেয়া। উনাদের অনুমতি ব্যতিত প্রকাশ করার জন্য আন্তরিক ভাবে ক্ষমাপ্রার্থী ।

অক্টোবর 29, 2009 at 1:46 অপরাহ্ন মন্তব্য দিন

আস্তিকতা বনাম নাস্তিকতা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল্লাহ নেই এই এটা প্রমান করার চেয়ে অনেক অনেক সোজা হচ্ছে আল্লাহ আছেন এটা প্রমান করা,খুবই সহজ ব্যাপার যেকোন কিছু সৃষ্টি করতে একজন স্রষ্টা লাগে,ধুম করে কিছু নিজে নিজে সৃষ্টি হয় না,এই মানুষ, গাছপালা,নদি সমুদ্র,প্রর্বত, পৃথিবী,গ্রহ,নক্ষত্র,তারা নিজে নিজে সৃষ্টি হয় নাই।

নাস্তিকদের জন্য প্রশ্ন,আজ পর্যন্ত কেউ দেখেছে নিজে নিজে কিছু সৃষ্টি হয়ছে যা কেউ সৃষ্টি করে নাই?
তার প্রত্যেকটা সৃষ্টিই অনেক জটিল আর মানুষ কে যে কত জটিল ভাবে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন তা তিনিই ভাল জানেন,এই জটিল নিয়ম গুলো এমনি এমনি নিজে থেক সৃষ্টি হয়েছে?

হাস্যকর ডারউইনিসম (তথা বানর তত্ত) দিন দিন হাস্যকর একটা কৌতুক এ পরিনত হচ্ছে , ডারউইন বেচারা ডি এন এ’র জটিল বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতেন না।ডারওয়িনবাদের প্রধান সমস্যা যেটা উনারা আলোচনা করতে চাননা, সেটা হচ্ছে ,আজ পর্যন্ত যে যে ফসিল উনারা পেয়েছেন সবই প্রথম ও শেষ ধাপ এর ফসিল।কিন্তু মধ্যবর্তি কোন মানুষের ফসিল আজ পর্যন্ত উনারা তন্ন তন্ন করে গবেষনা করেও পৃথীবির কোথাও খুজে পান নি।অথচ মানুষ এর মত এত জটিল ও প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন প্রানীর বিবর্তন হয়ে গেল আর তার মধ্যবর্তি কোন ফসিল এই পৃথীবিতে নেই, এটা কোন ভাবেই হতে পারেনা।শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তি তে উনাদের এই (বান্দরবাদ) প্রতিষ্ঠিত, অনুমানের উপর ভর করেই মানুষ সৃস্টির মত গুরুত্বপূর্ন মতবাদ কে উনারা বিজ্ঞ্যান বলে চালিয়ে দিলেন ।তারা রব কে বিশ্বাস করে না বলেই চাচ্ছে মানুষ সৃস্টির বিকল্প কোন মতবাদ দাড় করাতে।

এই মতবাদের আরো মজার বেপার হচ্ছে, অরা বলে এই পৃথীবিতে প্রকৃতি শুধু শক্তিশালি মানুষদের টিকিয়ে রেখেছে,বিবরতনের মাধ্যমে দুরবল মানুষরা ধ্বংশ হয়ে গেছে।এখানে এই সিলেকশান এর মালিক হচ্ছে প্রকৃতি,হাস্যকর ব্যপার হচ্ছে এই প্রকৃতি কিন্তু এদের কাছে বুদ্ধিমান কোন সত্তা নয়,প্রক্রিতি হচ্ছে এদের ভাষায় “নির্বোধ”।

পাঠক ভাইরা শুভঙ্করের ফাকি কি ধরতে পারছেন?যে প্রকৃতি এত বিবরতনের মাধ্যমে এত গুরুত্তপুরনা একটা কাজ করল সে নাকি “নির্বোধ”,কোন বুদ্ধি নাই তার !!! গোজামিল আর কাকে বলে।

কি জটিল ও গানিতিক নিয়মে পৃথিবীর ইকোসিস্টেম রক্ষা হচ্ছে,কি নিপুন গানিতিক নিয়মে পৃথিবি, চন্দ্র ,সুরজ , গ্রহ, নখত্র গুলো ঘুরছে নিজ অক্ষে, কখনও এই জটিল নিয়ম এর একচুল বেশকম হয়না।ওরা কি নিজে নিজেই এই জটিল পদ্ধতি রপ্ত করেছে নাকি কেউ তাদের কে এই জটিল নিয়মে আবদ্ধ করেছে যার এক চুল পরিমান কখনও বেশ-কম হয়না বা নিজের কক্ষ পথ থেকে বিচ্যুত হয় না?

মানুষের,পশু পাখি,গাছপালা এমন কি মশা-মাছির জটিল দেহ সৃষ্টি শৈলি বার বার অবাক করে দেয়,কিভাবে এই সব কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে!এক মানুষের জন্মের কথাই চিন্তা করলে অবাক লাগে কিভাবে মাত্র একটি ডিম্বানু ও শুক্রানুর সমন্নয়ে এই জটিল মানুষ তৈরি হয়?

নাস্তিকরা বলবে সব কিছু প্রাকৃতিক নিয়মে হচ্ছে,সব কিছুই প্রকৃতি নিয়ন্ত্রন করছে।নাস্তিক দের ভাষায় তাহলে “প্রকৃতি” সেই বুদ্ধিমান সত্তা। আর আমাদের ভাষায় তিনিই হচ্ছেন আল্লাহ,যিনি সব কিছুর একক সৃষ্টিকর্তা ,নিয়ন্ত্রনকর্তা,পালনকর্তা, আদেশদাতা,মৃত্যুদাতা।

এই খুবই বুদ্ধিমান,গানিতিক,জটিল “প্রকৃতি বা প্রাকৃতিক নিয়ম” যে সব কিছু কে এই জটিল নিয়মে আবদ্ধ করেছে আপনারা কি কখনো তাকে দেখতে পান,ধরতে পান,হাত দিয়ে ছুতে পান,নাক দিয়ে গন্ধ শুকতে পান,ওজন দিয়ে তার পরিমাপ করতে পান?

তেমনি আল্লাহকে দেখতে পাই না,ধরতে পাইনা,হাত দিয়ে ছুতে পাইনা,নাক দিয়ে গন্ধ শুকতে পাইনা,ওজন দিয়ে তার পরিমাপ করতে পারিনা।তিনি মানুষের ইন্দ্রীয়ের অনেক অনেক উর্ধে।

কারন মানুষ যদিও ব্যাপক অনুভব শক্তির অধিকারি কিন্তু তার ক্ষমতা খুব সীমিত। একটু চিন্তা করেন সাধারন গামা রে,এক্স রে, ইনফ্রারেড রে,রেডিও তরংগ,চুম্বকীয় শক্তি ও অন্যান্য অনেক তরংগ/ শক্তি আমরা কিন্তু দেখতে পাই না,ধরতে পাইনা,হাত দিয়ে ছুতে পাইনা, নাক দিয়ে গন্ধ পাইনা, শুধু মাত্র যন্ত্রপাতি/মেশিনের সাহায্যে আমরা তাদের কাজে লাগাতে পারি ও উপশ্হিতি টের পাই।

এই কিছু দিন আগে মানুষ মহাবিশ্বে ব্লাক মেটার এর অস্তিতা পেয়েছে যা মানুষ খালি চোখ এ কোন দিন দেখতে পারবেনা(ন্যাশনাল জ়িওগ্রাফি চ্যানেল,আমার কাসে ভিডিও ক্লিপ টা আছে,চাইলে নিতে পারেন)।আরো কত রশ্মি / শক্তি মহাবিশ্বে লুকিয়ে আছে যা মানুষ ধীরে ধীরে আবিষ্কার করবে।

কান এর নিদ্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আছে, নিদ্দিশট ডেসিবল এর বেশি বা কম শুন্তে পাইনা,চোখ দিয়ে নিদ্দিষ্ট পরিমান এর কম আমরা দেখতে পাই না আবার ওয়েল্ডিং মেশিনের প্রখর আলোর দিকে তাকাতে পারি না……… ।তেমনি মানুষের প্রত্যেক টা অঙ্গের নিদ্দিষ্ট সীমা বদ্ধতা আছে যার সীমা আমরা অতিক্রম করতে পারি না,আবার মানুষের জ্ঞান এর কথা চিন্তা করেন,প্রত্যকে একটা নিদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর জ্ঞান লাভ করে থাকে,কেউ কখনই এক সাথে ডাক্তার,ইঙ্গিনিয়ার,আইনজিবি,লেখক…এক সাথে সব বিষয়ের ওপর জ্ঞানী হতে পারেনা।যেকোন একটা বিষয়ের উপর বেশি জ্ঞান লাভ করে / পারদরশী হয় আর অন্য বিষয়ের ওপর ভাসা ভাসা জ্ঞান থাকে।

তাহলে কিভাবে আমরা আল্লাহ কে দেখব,ধরব,হাত দিয়ে ছতে পাব, নাক দিয়ে গন্ধ শুনতে পাব ,ওজন দিয়ে তার পরিমাপ করতে পারব?

বিজ্ঞান আর আল্লাহ তে বিশ্বাস কখনই পরষ্পর বিরোধঈ নয়।আল্লাহ কিভাবে এই মহাবিশ্ব কে নিয়ন্ত্রন করছেন,তার সৃষ্টি তথ্য, তা শুধু মাত্র খাটি বিজ্ঞান দারাই বুঝা সম্ভব। আর ভুল বিজ্ঞান মানুষ কে ভুল পথেই পরিচালিত করবে।

কিন্তু বিজ্ঞান এখনও পরিপুরনতা লাভ করে নি, ষোরশ শতাব্দিতে বিজ্ঞান যে থিওরি সত্য প্রমান করেছে তা সতেরশ শতাব্দি তে ভুল প্রমানিত হয়েছে,আবার শতেরশ শতাব্দি যা সত্য প্রমান হয়েছে আঠারশ শতাব্দি তে তা ভুল প্রমান হয়েছে………এরকম করতে করতে আজ একবিংশ শতাব্দি,আজ যা সত্য প্রমান হচ্ছে তা পরে ভুল প্রমান হতে পারে এবং তা হওটাই সাভাবিক। এভাবেই মানুষ আগাচ্ছে। ভুল করতে করতে সত্যের দিকে এগোবে।

আজকের নাস্তিকরা কোন জ্ঞান এর জোরে আল্লাহ কে ভুল প্রমান করছে যেখানে তার একক নিয়ন্ত্রন এর ছাপ সবখানে?

আল্লাহ কেন আমাদের কে দেখা দিচ্ছেন না?খুব সহজ কথা,এই পৃথিবি হচ্ছে মহা পরিক্ষা কেন্দ্র,মানুষ খুব অল্প সময়ের জন্য এখানে থাকে,এখানে আমরা পরিক্ষা দিচ্ছি আর আল্লাহ পরিক্ষা নিচ্ছেন,ফলাফল দিবেন বিচার দিবসে।কোন পরিক্ষক যদি পরিক্ষার মাঝে প্রশ্ন’র সব উত্তর বলে দেন তাহলে আর পরিক্ষা নেয়ার দরকার কি?তেমনি আল্লাহ যদি তার নেয়া এই পরিক্ষার মাঝে সব কিছুই দেখিয়ে দেন তাহলে আর বিচার দিবস বা কিয়ামাত এর দরকার হয় না।কিন্তু তিনি দয়াবান,মেহেরবান, মানুষ তার অত্যন্ত প্রিয় সৃষ্টি ,তাই তারা যেন এই পরিক্ষায় পাস করতে পারে তার জন্য তিনি মানুষের চার পাশে প্রতিটি জিনিষ এ তার সৃষ্টি ,নিয়ন্ত্রন ইত্তাদির ছাপ রেখে দিয়েছেন।মানুষ যদি তার অবাধ্য হয় তাতে তার কিছুই আসে যায় না,মানুষ স্বীকৃতি দিলে উনি ইলাহ/রব হবেন আর না স্বীকৃতি দিলে উনি রব/ইলাহ হবেন না,এটা ভাবা চরম বোকামি আর হাস্যকর।কারন মানুষ তার সৃষ্টি জগতের একটা সৃষ্টি মাত্র। সমগ্র সৃষ্টি জগতের প্রত্তেকে এক আল্লাহর আইন পরিপুরনা ভাবে মেনে চলছে, এক চুল বেশকম হয়না কোথাও।

নাস্তিকরা কুরআন / হাদিছ এর যে ব্যখ্যা দেয় তা ভুলে ভরপুর,অনেক টাই তাদের নিজস্ব চিন্তা ভাবনা (তরজমা), ভুল অনুবাদ। এইটা কি তাদের ইচ্ছাকৃত নাকি স্বভাবজাত বিরোধিতার কারনে তা আমি জানি না, কিন্তু উনারা কাঠমল্লা দের চেয়ে বেশি কিছু উনারা জানে না , এটা স্পষ্ট। আল-কুরআন এমন এক মহাগ্রন্থ যা পুরপুরি সঠিক ভাবে অন্য ভাষায় পুরোপুরি সঠিক রুপান্তর করা যায় না,এটা ও ওনারা জানেন না।

কিসের জোর এ ওনারা আল্লাহর বিরোধিতা করেন?আমাদের দেহের সম্পুরনটা এমন কি প্রতিটা লোম পর্যন্ত আল্লাহর পুরো নিয়ন্ত্রনে আছে।ইচ্ছা করলেই আমরা একটা লোম পর্যন্ত নিজের থেকে সৃষ্টি করতে পারি না।আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন তা হলো আমাদের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি(ব্রেইন) এর নিয়ন্ত্রন।যার সাহায্যে আমরা হাত উপর নিচ করতে পারি,ঘুরাতে পারি,পা চালাতে পারি,মাথা ঘুরাতে পারি,উঠতে পারি, বসতে পারি ইত্যাদি ইত্যাদি ………। যেমন আমাদের দেহ এক তা গাড়ির মত,এখানে ড্রাইভার হচ্ছে আমার চিন্তা শক্তি যাকে আল্লাহ নিয়ন্ত্রন দান করেছেন ইচ্ছামত গাড়ী চালানোর।

তাহলে কিসের জোরে আমি আল্লাহ কে অস্বিকার করব?আসলে আল্লাহ ঠিকই বলেছেন, যে যে পথে চলতে চায় আল্লাহ তাকে সে পথেই চালান,যে সব কিছ জেনে শুনে আল্লাহ কে অস্বিকার করেছে তাকে আল্লাহ সেভাবেই চালাবেন।

প্রতিটা মানুষ যখন ভীষন বিপদে সব মানুষ থেকে নিরাশ হয়ে,পড়ে তখন আল্লাহকে ত্রান কর্তা স্বীকার করেন।তাকে ডাকেন বিপদ থেকে উদ্ধার পাওআর জন্য। নাস্তিকরা তখন নিজেও বুঝতে পারবেন আল্লাহ বলে কেও একজন আছেন যিনি বিপদ থেকে তাকে উদ্ধার করেন।

আসলে খুব দুঃখ হয় নাস্তিকদের জন্য, আল্লাহ ওদের হেদায়াত দান করুন,সহজ সরল পথ দেখান,এই দোয়া করি। আমিন।

অক্টোবর 29, 2009 at 1:41 অপরাহ্ন মন্তব্য দিন


দিনপন্জী

মে 2012
সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র শনি রবি
« নভে    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

Posts by Month

Posts by Category


Follow

Get every new post delivered to your Inbox.