এন্টি নাস্তিকতা (১): মানুষের উৎপত্তি
নভেম্বর 4, 2009 at 12:31 অপরাহ্ন মন্তব্য দিন
পৃথিবীতে মানুষের উৎপত্তি কীভাবে হল সে সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ অত্যন্ত প্রাচীন। এ সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক থিওরী আছে। তবে কথা হল এগুলো সবই থিওরী,কোনটিই প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য(ফ্যাক্ট) নয়। যথা-অপেরনের থিওরী, বিবর্তনবাদ প্রভৃতি।
তবে থিওরী যাই থাকুক না কেন, অনেক বিজ্ঞানীই বিশ্বাস করে পৃথিবীতে মানুষ তথা জীব জগতের উৎপত্তির পেছনে অলৌকিক কোন ব্যাপার আছে,কোন অজানা রহস্যময় শক্তির প্রভাব আছে। তাই প্রকৃত অর্থে বিজ্ঞান ঈশ্বরকে বিলুপ্ত করে না, বরঞ্চ প্রচলিত ঈশ্বরের ধারনা পাল্টে দেয়।
তাহলে আসুন দেখি প্রকৃতির আকস্মিকতায় বা বাইচান্স এ মানুষের উৎপত্তির ব্যাপারে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ…
১. জীব কোষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান প্রোটিন অনু।প্রোটিন হল অসংখ্য অ্যামিনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত বৃহৎ যৌগিক জৈব অনু। গড়পড়তা একটি সাধারণ প্রোটিন অনু প্রকৃতি হতে বাছাইকৃত প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান সমন্বয়ে সঠিক পরিমানে ও অনুপাতে রাসায়নিক বিন্যাসের মাধ্যমে গঠিত হয় তার সম্ভাবনা হিসাব করেছেন অনেক বিজ্ঞানী। এটা হিসাব করেছেন বায়োলজিস্ট ফ্র্যাংক স্যলিসবরী ,তুরস্কের বিবর্তনবিদ আলী ডেমিসেরী, বায়োলজিস্ট প্রফেসর হাবার্ট ইয়োকিসহ আরও অনেকে।
হিসাব মতে এ সম্ভাবনা হল মোটামুটি ১ বাই ১০ টু দি পাওয়ার ৯৫০। যারা বিজ্ঞানের ছাত্র তারা সম্ভাবনা কত ধরে ফেলেছেন। এর মানে এ সম্ভাবনা ০.০০০…এরকম ৯৪৯ টি শূন্য তারপর ১। একজন গনিতবিদ আপনাকে বলবে ১ বাই ১০ টু দি পাওয়ার ৫০ হলেই তা গনিতে শূন্য হিসেবে ধরা যায়। আর ভাবুন, এটা শুধু একটা অনু তৈরি হওয়ার হিসাব।
আর তার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন তা হিসাব মতে, ১০ টু দি পাওয়ার ২৬৩ বছর। অর্থাৎ ১ এর পর ২৬৩ টি ০ বসালে যে সংখ্যা হয় তা । তার মানে, বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হওয়ার সময়ের চেয়েও অনেক অনেক বেশি সময়। আর এ সবই একটি মাত্র মলিকুল তৈরির জন্য। আর ভেবে দেখুন একটা কোষে কত প্রোটিন অনু থাকে আর প্রোটিন অনু ছাড়াও কত অন্যান্য অনু থাকে একটি কোষে । আর কতটি কোষ মিলে তৈরি হয় মানবদেহ।
একটি মানবশিশু যখন জন্মায় তখন তার দেহে থাকে প্রায় ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি মলিকুল থাকে। এসব ঘটনা আকস্মিকভাবে ঘটার সম্ভাবনা হিসেবাতীত ভাবে শূন্য।কোন সম্ভাবনাই নেই আকস্মিক ভাবে সৃষ্টি হওয়ার…। তাই বিজ্ঞান একথা স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে জীব জগত তথা মানব সৃষ্টিতে কোন ব্যাখ্যাতীত ব্যাপার আছে,কারও প্রোগামিং,কোন কিছুর নির্দেশনা আছে নিশ্চয়ই। (তথ্যসূত্র ১,২,৩,৪ ও অন্যান্য)
২. জার্মান বিজ্ঞানী রেইনহার্ড জাঙ্কার ও সিগফ্রিড স্কিরার ১৯৮৬ সালে জীব উৎপত্তিতে রাসায়নিক বিবর্তনের বিষয় ব্যাখ্যা করেন। তারা ব্যাখ্যা করেন প্রানের উদ্ভবের জন্য যে প্রয়োজনীয় উপাদান বাছাই হয়ে সমন্বয় হয়েছে এবং ক্ষতিকর উপাদান হতে রক্ষা পেয়েছে তা -অসম্ভব,অকল্পনীয়। (তথ্যসূত্র ৫)
৩. বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক , যিনি জেমস ওয়াটসনের সাথে ডিএনএ এর ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কার করার জন্য ১৯৬৩ সালে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, উপলব্ধি করেছেন এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এটা আশা করা যে, পৃথিবীতে জীবন আকস্মিক ভাবে সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি সহ আরও অনেক বিখ্যাত বিজ্ঞানী এটা ব্যাখ্যার জন্য নতুন এক থিওরীর কথা ভাবেন-এক্সট্রাটিরেসট্রিয়াল ইন্টিলিজেন্ট পাওয়ার অর্থাৎ অন্য কোথাও হতে সৃষ্ট প্রাণ পৃথিবীতে এসেছে।
৪. ব্রিটানিকা সায়েন্স এনসাইক্লোপিডিয়াতে বলা হয়েছে জীব কোষে অ্যামিনো এসিড ও প্রোটিনের বিন্যাস আকস্মিক হওয়ার সম্ভাবন কে মিলানো যায়- একটি কয়েনকে দশ লক্ষ বার টস করা হল আর প্রত্যেকবারই হেড পাওয়ার সম্ভাবনার সমান । একই জায়গায় বলা হয়, এটা বোঝা একদমই অসম্ভব যে, কেন অনু গুলো ডানবর্তী বা বামবর্তী হয়ে সঠিক বিন্যাসে থাকে। (তথ্যসূত্র ৬)
তাই বলা চলে বিজ্ঞান ঈশ্বরের ধারনা বিলুপ্ত করে না, ঈশ্বরের মডেল বিলুপ্ত করে। বরঞ্চ বিজ্ঞান দ্বারা ঈশ্বরের ধারনা যে ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় তা অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে অনেক অনেক জোরালো।
আর এ ব্যাপারে আর একটি কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, একজন বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্টতাহীন ব্যক্তি যত সহজে নাস্তিক হতে পারে,বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট লোক তা হতে পারে না,কথাটা পরিসংখ্যানসহ উদাহরণ দিয়ে পরবর্তীতে পরিষ্কার করার আশা রেখে প্রথম পর্ব শেষ করলাম।( চলবে..)
তথ্যসূত্র:
1.Encarta reference library –Microsoft Corporation
2. H.P. Yockey, “A Calculation of the Probability of Spontaneous Biogenesis by Information Theory,” J. Theoretical Biology, (1977), 67, pp.337-398.
3. H.J. Morowitz, Energy Flow in Biology (Academic Press, New York, 1968), p. 99.
4. Inheritance and Evolution, Ali Demirsoy , Meteksan Yayinlari 1984
5.Reinhard Junker & Siegfried Scherer, “Entstehung Gesiche Der Lebewesen”, Weyel, 1986
6.Fabbri Britannica Science Encyclopaedia, Vol. 2 ,No. 22,
Entry filed under: প্রথম পাতা, যুক্তি, শিক্ষা. Tags: .
Trackback this post | Subscribe to the comments via RSS Feed