আল-কুরআনের গুরুত্বঃ পর্ব-২
[মুসলমানদের জন্য কুরআন হচ্ছে ইহকাল ও পরকালের জন্য আল্লাহর মনোনীত সংবিধান। এই সংবিধানে বর্নিত বিধি-বিধান প্রত্যেক মুসলমানকে নিঃশর্তভাবে মেনে চলা আবশ্যক। অথচ আফসোসের বিষয় হল, আমরা অনেকেই এই কুরআন পড়ার পিছনে খুব অল্প সময়ই ব্যয় করি। আসুন না আমরা আমাদের অতি ব্যস্ততম জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে নিয়ে, প্রতিদিন এক পাতা হলেও কুরআন পড়ি ও তার অর্থ আত্বস্থ করার চেষ্টা করি।]
কোন মুসলিমের কাছে যদি প্রশ্ন করা হয় কুরআন কেন নাযিল হয়েছিল? অধিকাংশই বলবে নেকী লাভের জন্য। নেকী একটা দিক বটে কিন্তু মুলতঃ এই উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠানো হয় নি। এর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেনঃ
“এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসাবে অবতীর্ন করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে।” (সুরা ছোয়াদ, ৩৮ঃ২৯)
অর্থাৎ কুরআন নাযিলের একটা কারন এর অর্থ বুঝা এবং অজ্ঞনতার অন্ধকার থেকে মানুষকে জ্ঞানের আলোতে নিয়ে আসা।
কুরআন নাযিলের আরো কয়েকটি কারন কুরআনে পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেছেনঃ
সত্য –মিথ্যার মানদন্ড ও সতর্কীকরনঃ
“বড়ই বরকতময় সেই সত্তা, যে নিজ বান্দার (মুহাম্মদ (সাঃ)) প্রতি নাযিল করেছেন (সত্য মিথ্যার) মানদন্ড (কুরআন), যাতে করে তা বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারীর ভূমিকা পালন করে।” (সুরা আল ফুরকান, ২৫ঃ১)
মতভেদের ক্ষেত্রে মীমাংসা, বিশ্বাসীদের জন্য পথনির্দেশ ও করুনাঃ
“আমি আপনার প্রতি এ কিতাব এজন্য নাযিল করেছি, যেন আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্য তাদেরকে পরিষ্কার বর্ননা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে এবং ঈমানদারদের ক্ষমা করার জন্য।” (সুরা আন নাহল, ১৬ঃ৬৪)
বিচারকার্যঃ
“নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব নাযিল করেছি, যাতে করে আল্লাহর দেখানো সঠিক বিধান অনুসারে আপনি মানুষের মধ্য বিচার-ফয়সালা করেন। আর আপনি বিশ্বাসঘাতক লোকদের পক্ষে ওকালতি করবেন না।” (সুরা আন নিসা, ৪ঃ১০৫)
কুরআন নাযিলের যে কারনেগুলো আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন তা উপরের আয়াতগুলো থেকে জানা যায়। কারনগুলো হচ্ছেঃ
• মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসা
• সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করে দেয়া
• মানুষকে সর্তক করা
• চিন্তাশীলদের চিন্তার খোরাক জাগানো।
• সরল পথ দেখানোর জন্য
• আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করার জন্য
চলবে…..
collected from (http://prothom-aloblog.com/users/base/muslima/24)
পাখিদের উড্ডয়ন: রহস্য ও প্রজ্ঞার V

শীতের হিমেল হাওয়ায় ভেসে আসা অতিথি রাজহংস কিংবা সন্ধ্যায় নীড়ে ফেরা সরালীর ঝাঁকে যদি কখনো তাকান, দেখতে পাবেন V আকারে এগিয়ে চলছে পাখির দল।
কেন এই V আকারে ভেসে চলা? কারণটি কি এই, পাখিরা E বা G কিংবা অন্য কোনো বর্ণ ফুটিয়ে তুলতে পারে না আকাশে!
অধিকাংশ পাখি-বিশেষজ্ঞ (ornithologist) বিশ্বাস করেন, বিন্যাসটি সুদক্ষ উড্ডয়নের প্রয়োজনে গঠিত হয়, যদিও তারা এ ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বহুদিন। এই শতাব্দীর একেবারে শুরুতে বিজ্ঞানীদের একটি দল ছোট বিমানের পেছন পেছন উড্ডয়নের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক ঝাঁক পেলিক্যানের উপর গবেষণা করে দেখতে পান, V বিন্যাসে উড়ার সময় পাখির হৃদস্পন্দন, একা একা উড়ার সময়কার হৃদস্পন্দনের চেয়ে কম থাকে। ধীরে ধীরে প্রমাণ মেলে পাখির বায়ুগতিবিদ্যা (aerodynamics) সংক্রান্ত নানা বিস্ময়কর তথ্যের:
উড্ডয়নের জন্য ঝাঁকের একটি পাখি যখন ডানা ঝাপটায়, এর ঠিক পেছনের পাখিটির উপর বায়ুর ঊর্ধ্বমুখী ঘূর্ণাবর্ত (vortex) সৃষ্টি হয়। ঊর্ধ্বচাপের সুবিধা কাজে লাগিয়ে পেছনের পাখিটি সামনেরটির চেয়ে একটু উপরে অবস্থান করে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম শক্তি ব্যয় করেও ভেসে থাকে। এভাবে পাখির ঝাঁকটি একা একা উড্ডয়নে অতিক্রান্ত দূরত্বের চেয়ে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে!
যদি কোনো পাখি বিন্যাসের বাইরে চলে যায়, সাথে সাথে এটি বাতাসের অতিরিক্ত টান (drag) ও বাধা অনুভব করে। পরিবর্তনটি বুঝতে পেরে পাখিটি দ্রুত বিন্যাসে চলে আসে এবং সামনের পাখিটির কাছ থেকে সৃষ্ট উড্ডয়ন সুবিধা লাভ করে।
সামনের দলনেতা পাখিটি বাতাসের সবচেয়ে বেশি বাধা অনুভব করে, এবং ক্লান্ত হয়ে গেলে পাখা ঝাপটানোর বেগ কমিয়ে দিয়ে এটি ঝাঁকের পেছন দিকে সরে আসতে থাকে। পেছনের আরেকটি পাখি তখন নেতার স্থানটি গ্রহণ করে।
মজার ব্যাপার হলো, V-এর দুই ডানার সবচেয়ে পেছনের পাখি দুটি আবার মাঝের পাখিগুলির চেয়ে বেশি টান অনুভব করে, ফলে ক্লান্তি লাঘবের জন্য এদেরও নিয়মিত স্থান পরিবর্তিত হতে থাকে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব পাখি ঝাঁকের মাঝখানে থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা লাভ করে এবং অগ্রভাগে নেতা হিসেবে সবচেয়ে বেশি বাধার মুখোমুখি হয়।
V-বিন্যাস পাখিদের যোগাযোগ রক্ষার কাজটি সহজতর করে। এ বিন্যাসে পাখিরা পরস্পরের সাথে খুব চমৎকার ঐক্ষিক যোগযোগ (visual contact) বজায় রাখতে পারে, যা ঝাঁকটি সুসংহত, ঐক্যবদ্ধ রাখে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমার সময় এতে ঝাঁক থেকে পাখি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব কমে যায়। এ ছাড়া পেছনের পাখি চিৎকার করে সামনের পাখিকে নিয়মিত উৎসাহ দিয়ে যায়, যাতে সামনের পাখি তার গতিবেগ বজায় রাখে।
কোনো পাখি অসুস্থ, শিকারীর গুলিতে আহত, কিংবা খুব ক্লান্ত হয়ে বিন্যাসের বাইরে চলে গেলে, তার সাথে আরো পাখি নেমে আসে সাহায্য ও নিরাপত্তার জন্য। এরা অসহায় পাখিটির সাথে থেকে যায় যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় বা মারা যায়। তারপর তারা উড়ে মূল দলের কাছে পৌঁছে যায়, নতুবা অন্য কোনো দলের সাথে জুড়ে যায়, কিংবা নিজেরাই নতুন বিন্যাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করে।
________________________________________

কত অপার রহস্য ছড়িয়ে রেখেছেন স্রষ্টা! চারপাশে বিরাজমান সহমর্মিতার কত না নিদর্শন! পাখির কাছে বিজ্ঞান ও মানবতার কী গভীর প্রজ্ঞা!
collected from (http://prothom-aloblog.com/users/base/serendipity/149)
আল-কুরআনের গুরুত্বঃ পর্ব-১
কুরআনের গুরুত্ব সমন্ধে এই সিরিজে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ। বিশ্বের সর্বশ্রষ্ঠ ধর্ম গ্রন্থ পবিত্র আল-কুরআন।মুসলমানদের জন্য এই কুরআন হচ্ছে ইহকাল ও পরকালের জন্য আল্লাহর মনোনীত সংবিধান। এই সংবিধানে বর্নিত বিধি-বিধান প্রত্যেক মুসলমানকে নিঃশর্তভাবে মেনে চলা আবশ্যক। অথচ আফসোসের বিষয় হল, আমরা অনেকেই এই কুরআন পড়ার পিছনে খুব অল্প সময়ই ব্যয় করি। আসুন না আমরা আমাদের অতি ব্যস্ততম জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে নিয়ে, প্রতিদিন এক পাতা হলেও কুরআন পড়ি ও তার অর্থ আত্বস্থ করার চেষ্টা করি।
প্রথমেই জানা যাক আমরা কুরআন কেন পড়বো?
“আলিফ লাম রা; এতি একটি গ্রন্থ। যা আমি আপনার প্রতি নাজিল করেছি- যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন- পরাক্রান্ত প্রশংসার যোগ্য সত্তার পথের দিকে।” (সুরা ইব্রাহীম, ১৪ঃ১)
কুরআনের এই আয়াত পড়ে ইসলামের কোন সমালোচক প্রশ্ন করতে পারেন কুরআনের এই কথাগুলো কি সত্য? কিন্তু মুসলিমদের বাস্তব অবস্থার সাথে এই কথার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। মুসলিমরা অন্ধকারেই বসবাস করছে। অবশ্যই আল্লাহর বাণী সত্য, এতে কোন সন্দেহ নাই। কেউ যদি কুরআনের ইতিহাস অধ্যয়ন করে এবং পুর্ববর্তিদের উপর কুরআনের প্রভাব লক্ষ্য করে তবে দেখবে কুরআনের এই বাণী সত্যে পরিণত হয়েছিলো। এটা সত্যিই দুঃখজনক যে আজকের মুসলিমরা এই অসাধারণ গ্রন্থের অধিকারী হয়েও এ থেকে হেদায়েতের নূর পাচ্ছে না। এর কারন খুঁজতে গেলে দেখা যায় কুরআনকে মুল্যায়ন ও বুঝতে না পারার মধ্যেই সমস্যা নিহিত।
কুরআন এই পৃথিবী ও আখেরাতে মুমিনের জন্য সম্মান বয়ে আনে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,
“আমি তোমাদের প্রতি একটি কিতাব অবতীর্ন করেছি; এতে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে। তোমরা কি বোঝ না?” ( সুরা আম্বিয়া, ২১ঃ১০)
এই আয়াতটি আরবের কুরাইশদের উপর নাজিল হয়েছিল। কুরআন নাজিলের আগে কেউ তাদের সম্মান দিত না। কিন্তু কুরআনের কারনেই তাদের সম্মান বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুলনীতি এখনও অপরিবর্তিত যেমনটি রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “ আল্লাহ্ তাঁর এই কিতাব দ্বারা কিছু লোককে উপরে উঠান আর কিছু লোককে নামিয়ে দেন নীচে।” (মুসলিম)
কোন মুমিন যদি সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায় এবং অন্যের চোখে নিচু হতে না চায় তবে আল্লাহ্ জানিয়ে দিয়েছেন তাদের কি করতে হবে, কুরআনের কাছে ফিরতে হবে এবং এর শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতো গেল দুনিয়ার সম্মান। আখেরাতেও কুরআন মুমিনদের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। আবি উমামা (রাঃ) বর্ননা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, “তোমরা কুরআন পাঠ করো। কিয়ামতের দিন কুরআন তার সাথীদের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে উপস্থিত হবে।” (মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “ সকল কথার উপর আল্লাহ্ বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক সেরকম, যেমন সকল সৃষ্টির উপর আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠত্ব।”(তিরমিযি)
কোন ব্যক্তি যখন এই কুরআনের প্রকৃত মর্যাদা বুঝতে পারবে তখন সে অবশ্যই কিছু সময় এর অধ্যয়নে ব্যয় করবে। কুরআনের প্রতিটা বাক্য, প্রতিটা শব্দ, প্রতিটা অক্ষর আল্লাহ্র পক্ষ থেকে যিনি জানেন যা কিছু গোপন ও প্রকাশ্য, যিনি সবচেয়ে জ্ঞানী, যিনি প্রবল পরাক্রমশালী ও সবকিছুর মালিক। কুরআন তাই জ্ঞানের উৎস হিসাবে অনন্য, এতে কোন ভুল নেই এবং মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় সবই এতে বিদ্যমান। একজন মুমিনের কি কুরআন না পড়ে হাত পা গুটিয়ে রাখা মানায়?
চলবে…….
collected from (http://prothom-aloblog.com/users/base/muslima/3)
মৌমাছি—বিস্ময়কর এক ভেক্টর গণিতবিদ !

তৈলাক্ত বাঁশের বানর
“আপুর বইয়ে একটা অঙ্ক দেখলাম, বাবা—তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উপরে উঠছে এক বানর। বানরটি এক মিনিটে ৩ মিটার উঠে, আবার পরের মিনিটেই পিছলে ১ মিটার নেমে যায়। বানররা কি এরকম করে, বাবা? আর এ অঙ্ক করেই বা কী কাজ হবে?” এক অপরাহ্নে, পারিবারিক চায়ের আসরে, আমার ছোট মেয়ে ফারিনের প্রশ্ন।
প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসেন মেয়েদের মা। মেয়ের চুল নেড়ে দিতে দিতে আমি বলি, “তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উঠার মতো বাঁদরামী বানররা হয়তো কখনো করবে না। অঙ্কটি যারা তৈরি করেছেন, তারা বাস্তব জীবনের সাথে মিল রেখে একে তৈরি করতে পারতেন। তবে কোনো গণিতই অর্থহীন নয়, কারণ গণিত চিন্তার জগতকে প্রসারিত করে। যেকোনো বিষয়কে সুশৃঙ্খল সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে গণিত, ফলে তা বুঝতে সহজ হয়। আর গণিতের সবচেয়ে বড় উপকারটি হলো, এটি তোমার মনে মায়া মমতা সৃষ্টি করবে।”
“গণিত কিভাবে মমতা সৃষ্টি করে, বাবা?” বড় মেয়ে জেরিনের প্রশ্ন।
“তুমি যখন চারপাশে উড়ে যাওয়া পাখি, খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়া পিঁপড়া, কিংবা মধুর সন্ধান পাওয়া মৌমাছির দিকে তাকাও, মনে হতে পারে এগুলো নিতান্ত সাধারণ প্রাণীর সহজ সরল ঘটনা। কিন্তু তুমি যদি শোনো প্রাণীগুলি কতই না চমৎকার অথচ জটিল গাণিতিক নিয়ম মেনে চলে, খুব অবাক হবে। এই যে মৌমাছি, তাকে খুব উঁচু মাপের একজন গণিতবিদই বলা চলে—একথা যখন শুনবে, উপলব্ধি করবে মোটেও তুচ্ছ নয় সে, মানুষের কাছে রয়েছে তার সম্মানের দাবী। আর তখন, মৌমাছির প্রতি তোমার গড়ে উঠবে বিস্ময়মাখা এক মমতা।”
“মৌমাছি গণিত জানে!” হা হয়ে যায় ফারিনের মুখ।
“হ্যাঁ, বলছি তাহলে, শোনো। তার আগে স্থানাংকবিদ্যা (Coordinate System) নামে গণিতের একটি শাখার ব্যাপারে হালকা ধারণা থাকতে হবে তোমাদের।” আমি দ্রুত একটি ছবি এঁকে তুলে ধরি মেয়েদের সামনে।
লালমাটিয়ার বাড়ি
“মনে করো, এটি ঢাকার লালমাটিয়া এলাকা, যা A, B, C,… বিভিন্ন ব্লকে বিভক্ত। প্রতিটি ব্লকে আবার রয়েছে 1, 2, 3, … করে বিভিন্ন বাড়ির নম্বর। এখন বলো, কেউ হাসপাতালটিকে কিভাবে খুঁজে পাবে?”
“তাকে E-ব্লকের 2-নম্বর বাড়িতে যেতে হবে।” জেরিন দ্রুত উত্তর দেয়।
“আর মসজিদটি হলো A-ব্লকের 5-নম্বর বাড়ি।” বোনের কথা শেষ হতে না হতে ফারিনও চিৎকার দিয়ে উঠে।
“হ্যাঁ, ঠিক বলেছ। কত সুন্দর ব্যবস্থা, দেখ। যেকোনো বাড়িতে যেতে হলে, তোমার শুধু দুটি জিনিস জানতে হবে: ব্লক নম্বর আর বাড়ির নম্বর। কেউ যদি বলে, ছবির বহুতল শপিং কমপ্লেক্সের ঠিকানা কী, তাহলে আরো সংক্ষেপে (D, 4) বললেই হবে। সাথে সাথে সবাই বুঝে যাবে, এটি D-ব্লকের 4-নম্বর বাড়ি।”
“কিন্তু লালমাটিয়া এলাকায় কি সত্যি সত্যি এভাবে বাড়ির নম্বর আছে! তাহলে মানুষ বাড়ি খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে যায় কেন?”
“না, আমাদের দেশে এভাবে বাড়ির নম্বর দেয়া হয় না। যারা নগরের পরিকল্পনা করেন, তারা যদি ভালো গণিতও জানেন, গণিতকে ভালোবাসেন না। আর এ কারণে, আমাদের চারপাশে এত বিশৃঙ্খলা।
এখন দেখো—নীচের গাছ, রাস্তা, দালান বিশিষ্ট কোণার জায়গাটি, যেখান থেকে লালমাটিয়া এলাকা শুরু হয়েছে, তাকে আমরা বলি মূলবিন্দু (Origin)। মূলবিন্দু থেকে লালমাটিয়ার যেকোনো জায়গাকে দুটি মাত্র প্রতীক দ্বারা আমরা প্রকাশ করতে পারি। এভাবে সংক্ষেপে, সুশৃঙ্খলভাবে কোনো জায়গার অবস্থান নির্দেশ করার পদ্ধতিকেই বলা হয় স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা। যদিও নগর পরিকল্পনায় এর প্রচলন ছিল বেশ বহু আগে থেকেই, গণিতে একে প্রথম প্রকাশ করেন মহান দার্শনিক বিজ্ঞানী রেনে ডেকার্তে (René Descartes)।”
ডেকার্তে’র মাছি
জনশ্রুতি আছে, তীব্র এক গরমের দিনে, বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অসুস্থ ডেকার্তে—ক্লান্ত এক মাছি ছাদে ইতঃস্তত ঘোরাঘুরি করছে।
খুব মজা পেলেন ডেকার্টে, মনে মনে ভাবলেন, “বেচারা মাছিটি জানেও না, সে তার চলার পথে বিভিন্ন জ্যামিতিক আকার ফুটিয়ে তুলছে।” খানিক পর মনে হলো, “ইসস, যদি কোনোভাবে মাছিটির বক্রপথের বিন্দুগুলিকে চিহ্নিত করে তাদের অবস্থান মাপা যেত, তাহলে হয়তো তার চলার পথটিকেও গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যেত।”
এক সময় হঠাৎ তিনি উপলব্ধি করলেন, আরে বিন্দুগুলোর অবস্থান তো খুব সহজেই মনে রাখা যায়! বিক্ষিপ্তভাবে ছাদের চার কোণা থেকে মাছির অবস্থান চিন্তা না করে, শুধু এক কোণা থেকে হিসেব করলেই তো হয়। এক কোণা থেকে বেরিয়ে যাওয়া, দেয়ালের দুই সংস্পর্শ লাইন থেকে দূরত্ব পরিমাপ করাই যথেষ্ট। তার মানে মাছিটি এক লাইন থেকে 3 ফুট, আরেক লাইন থেকে 4 ফুট দূরে হলে, মাছির অবস্থানকে সংক্ষেপে (3, 4) বললেই হবে। এভাবে মাছিটি কখনো (1, 1), (2, 1.5), (3, 3) এরূপ বিভিন্ন জায়গায় অব্স্থান করতে পারে। খাতায় দেয়ালের কোণা, লাইন এঁকে দেখালে ডেকার্তের মাছিটি দেখাবে:
ডেকার্তের নামানুসারে এর নাম কার্তেসীয় স্থানাংক ব্যবস্থা (Cartesian Coordinate System)। আয়তাকার বলে, একে আয়তিক স্থানাংক ব্যবস্থা (Rectangular Coordinate System)ও বলা হয়।
কার্তেসীয় ব্যবস্থায় কোনো বিন্দুর অবস্থান জানতে তুমি আনুভূমিক ও উলম্ব অক্ষ বরাবর দুটি দূরত্ব বের কর। পোলার স্থানাংক ব্যবস্থা (Polar Coordinate System) নামে আরেকটি স্থানাংক ব্যবস্থা আছে, যেখানে মূলবিন্দু থেকে কাঙ্ক্ষিত বিন্দুর সরাসরি দূরত্ব এবং সেটি কত কোণে আছে জানলেই চলবে। যেমন ধর, কার্তেসীয় স্থানাংক ব্যবস্থায় একটি বিন্দু (3, 4), অর্থাৎ বিন্দুটি মূলবিন্দু থেকে 3-ঘর ডানে, তারপর 4-ঘর উপরে অবস্থিত। পোলার স্থানাংকে সেটি মূলবিন্দু থেকে r দূরত্বে এবং অনুভূমিকের সাথে α কোণে হলে,
পীথাগোরাসের সূত্র প্রয়োগ করে পাও,
r^2 = 3^2 + 4^2
=> r^2 = 9 + 16
=> r^2 = 25
=> r = ±5
দূরত্ব যেহেতু ধনাত্মক, r = 5.
আর ত্রিকোণমিতির ট্যানজেন্ট সূত্র থেকে পাও,
tanα = 4/3
=> tanα = 1.33…
এখন ক্যালকুলেটরের সাহায্যে পাও, α = 53.1 ডিগ্রি (প্রায়)। অথবা চাঁদার সাহায্যেও কোণটি মাপতে পার।
সুতরাং কার্তেসীয়ে (3, 4) যে কথা, পোলারে (5, 53.1ডিগ্রি) একই কথা। এর মানে হলো, অনুভূমিকভাবে 3 ঘর, তারপর উলম্বভাবে 4 ঘর গিয়ে তুমি যেখানে পৌঁছবে, অনুভূমিকের সাথে প্রায় 53.1 ডিগ্রি কোণে 5 ঘর গেলে সেই একই বিন্দুতে পৌঁছবে। এভাবে কোণ আর দূরত্ব জানলেও তুমি যেকোনো জায়গা বের করে ফেলতে পার। এবার তাহলে আসি, আমাদের বিস্ময়কর গণিতবিদ মৌমাছির কথায়।
ভেক্টর গণিতজ্ঞ মৌমাছি
প্রতিদিন সকালে বেরিয়ে পড়ে অনুসন্ধানী (scout) মৌমাছি, উড়ে বেড়ায় এক ফুল থেকে আরেক ফুলে, যতক্ষণ না পর্যন্ত চমৎকার মানসম্পন্ন মধুর খোঁজ পায়। কাঙ্ক্ষিত ফুলের সন্ধান পাওয়ার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে ফিরে আসে মৌচাকে, অন্যদেরকে জানায় তার আবিষ্কারের কথা। প্রথমে সে বয়ে আনা মকরন্দটি (nectar) তাকে গোল হয়ে ঘিরে ধরা কর্মী মৌমাছিদের মুখের কাছে নিয়ে নিয়ে স্বাদ দেয়, এতে তারা বুঝতে পারে মধুর গুণাগুণ। মধুর গুণের ব্যাপারে অন্যদের আস্থা জন্মানোর পর, মধুর উৎসের সন্ধান দেয় সে, অদ্ভুত এক উপায়ে, যা দেখে অন্যরা (recruit) উৎসের দিকে তাদের অভিযান শুরু করে।
কোন পথে উৎসটি বিদ্যমান এটি জানানোর জন্য স্পন্দন নৃত্য (Waggle Dance) নামে এক ধরণের নাচ শুরু করে স্কাউট মৌমাছিটি। এতে মৌচাকের একটি স্থান থেকে শুরু করে, প্রথমে শরীর কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে নির্দিষ্ট দিকে সোজা একটু দূরত্ব অতিক্রম করে সে, তারপর অর্ধবৃত্তাকার পথে সূচনা বিন্দুতে ফিরে আসে, আবার সোজা পথে শরীর কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে পূর্বের দূরত্ব অতিক্রম করে, এবং অবশেষে বিপরীত দিক থেকে অর্ধবৃত্তাকার পথে ফিরে আসে—এভাবে বাংলা ৪-এর মত দেখতে বর্তনীপথ তৈরি করে। সঙ্গীদেরকে কয়েকবার সে এভাবে বর্তনী তৈরি করে দেখায়।
মধুর উৎসের দিক
বর্তনীর সোজা পথটুকুর দিক থেকে মধুর উৎসের দিকের সন্ধান পাওয়া যায়।
যেমন, উপরের ছবির প্রথম মৌমাছিটির খাবারের উৎস সূর্যের দিকে, তাই সে মৌচাকে আসার পর তার নাচের সোজা পথটি হবে মৌচাকের নীচ থেকে খাড়া উপরের দিকে। খাড়া উপরের দিক মানে সূর্যের দিক।
দ্বিতীয় মৌমাছিটির খাবারের উৎস হলো মৌচাক থেকে যেদিকে সূর্য, তার সাথে ৯০ ডিগ্রি কোণে ডান দিকে। তাই মৌচাকে আসার পর এর নাচের সোজা পথটিও খাড়া উপরের দিকের সাথে ৯০ ডিগ্রি কোণে ডান দিকে হবে।
অন্যদিকে তৃতীয় মৌমাছিটির খাবারের উৎস হলো, যেদিকে সূর্য, তার সাথে ১৩৫ ডিগ্রি কোণে বাম দিকে। তাই এর নাচের সোজা পথটি হবে খাড়া উপরের দিকের সাথে ১৩৫ ডিগ্রি কোণে বাম দিকে।
“তার মানে সংবাদবাহক মৌমাছি প্রথমে সূর্যের দিকটি দেখে, তারপর তার সাথে খাবারের উৎস কত ডিগ্রি কোণে, কোন দিকে আনত তা হিসেব করে। এবং মৌচাকে আসার পর, খাড়া উপরের দিকটিকে সূর্যের দিক ধরে নিয়ে, কোণটিকে সেভাবে ডানে বা বামে সমন্বয় করে অন্যদের দেখায়। অন্যরা তখন প্রথমে সূর্যকে দেখে সেভাবে খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে।” জেরিন বলে।
“হ্যাঁ।” স্মিত হেসে সায় দেই আমি।
মধুর উৎসের দূরত্ব
“তার মানে ফুলটি কোন দিকে আছে এটি বোঝা গেল, কিন্তু কত দূরত্বে আছে এটি কীভাবে বুঝবে?” জেরিনের প্রশ্ন।
“এটিও মজার। যদি ফুলটি দূরে হয়, তাহলে সোজা পথটি অতিক্রম করার সময় মৌমাছিটি বেশি সময় নিবে, কাছে হলে কম সময়। সোজা পথের সময় দেখে অন্যরা হিসেব করে নেয় কত দূরে খাবারের উৎস। একটি বিশেষ প্রজাতির মৌমাছির উপর গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ মিটার দূরত্বের জন্য স্পন্দন নৃত্যের সময় ৭৫ মিলিসেকেণ্ড করে বেড়ে যায়। অন্য প্রজাতির ক্ষেত্রে ফলাফলটি ভিন্ন হতে পারে। তবে যেকোনো প্রজাতির ক্ষেত্রে দূরত্বের সাথে সময়ের সর্বদাই একটি সুনির্দিষ্ট সরলরৈখিক সম্পর্ক (linear relationship) বিদ্যমান। নিচে তোমাদেরকে এশীয় এবং ইউরোপীয় দুটি মৌমাছি প্রজাতির ক্ষেত্রে দূরত্ব বনাম স্পন্দন নৃত্যের স্থায়িত্বকাল-এর সম্পর্ক দেখাচ্ছি ”
1. এশীয় মৌমাছি Apis cerana cerana-এর দূরত্ব (x)বনাম সময় (y) রেখাঃ y=154+3.40x
2. ইউরোপীয় মৌমাছি Apis mellifera ligustica-এর দূরত্ব (x)বনাম সময় (y) রেখাঃ y=165+1.92x
Su et el.
“আচ্ছা, বাবা, সূর্য তো সব সময় এক জায়গায় থাকে না। যদি মৌমাছিটির আসতে দেরী হয়, তখন তার নাচ দেখে অন্যরা বের হয়ে গেলে তারা দিক ভুল করে ফেলবে না?”
মেয়ের প্রশ্নে চমৎকৃত হই। “হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছ। প্রতি ৪ মিনিটে সূর্য ১ ডিগ্রি করে পশ্চিম দিকে সরতে থাকে। যদি অনুসন্ধানী (scout) মৌমাছিটির মৌচাকে আসতে বেশ সময় লাগে কিংবা মৌচাকে আসার অনেক পরে নাচ দেখায়, সূর্যের দিক পরিবর্তনের সাথে তার নৃত্য কোণটিও সেভাবে সমন্বয় করে নেয় সে, ফলে কোনো সমস্যা হয় না। এ এক অদ্ভুত ক্ষমতা। এটি না ঘটলে পরবর্তী মৌমাছিদের (recruit) অনেকেই মারা যেত, কারণ ভুল পথে চলে যাবার কারণে বাসা থেকে যে খাবার নিয়ে তারা বের হতো, তা শেষ হয়ে যেত, এবং খাবারের কোনো উৎস খুঁজে না পাওয়ায় ক্লান্তিতে আর ফিরে আসতে পারত না। কিন্তু এরকম কখনো হয় না।”
“সত্যিই খুব অদ্ভুত তো! কিন্তু যদি আসার পথে মেঘে সূর্য ঢেকে যায়, তাহলে কি করবে?”
“অতিবেগুনি রশ্মি (ultraviolet rays) কাজে লাগিয়ে, মৌমাছি অন্ধকারেও সূর্যের অবস্থান বুঝতে পারে, মামণি।”
আমি চুপ করে তাকিয়ে থাকলাম মেয়েদের দিকে। গণিত নিয়ে আলোচনার শেষের দিকে তাদের চোখের সেই চিরায়ত মুগ্ধ বিস্ময়।
“এর পর মৌমাছি দেখলে,” আমি ধীরে ধীরে বলি, “নিশ্চয়ই গভীরভাবে স্মরণ করবে তাদের গাণিতিক গুণের কথা, উপহাস ভরে উড়িয়ে দেবে না নিছক ক্ষুদ্র প্রাণী বলে। জগতে সবারই নিজের মত করে রয়েছে জ্ঞান, এ উপলব্ধি যখনই আসবে তোমার, তা শ্রদ্ধা জাগাবে জগতের অপার রহস্যের প্রতি, সৃষ্টি করবে সহনশীলতা আর সৃষ্টিজগতের প্রতি মমতা। এবং অবশ্যই সে সময় তোমার কৃতজ্ঞতা জানাবে মহান সেই গণিতবিদের প্রতি যিনি মৌমাছির ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে স্থাপন করে দিয়েছেন বিস্ময়কর এই জ্ঞান।”
[সংক্ষেপিত সংকলিত]
__________________________________
তোমার প্রভু প্রত্যাদেশ দিলেন মৌমাছিকে “নিবাস গড়ে তোল তোমরা পাহাড়ে এবং বৃক্ষে, এবং সেসব স্থাপনায় যা নির্মাণ করে মানুষ। অতঃপর খাও ফলসমূহ থেকে এবং গমন কর প্রভুর নির্ধারিত পথ ধরে, যা সুগম করা হয়েছে তোমাদের অনুসরণের জন্য।”
এদের উদর হতে নির্গত হয় এক পানীয়, বিচিত্র তার বর্ণ, যাতে রয়েছে মানুষের রোগমুক্তি। নিঃসন্দেহে চিন্তাশীলদের জন্য এতে রয়েছে নিশ্চিত নিদর্শন।—আল কুরআন, সুরা আন-নহল: ৬৮-৬৯
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:৪৬
collected from (http://www.somewhereinblog.net/blog/Maveriick/28981087)
এন্টি নাস্তিকতা (১): মানুষের উৎপত্তি
পৃথিবীতে মানুষের উৎপত্তি কীভাবে হল সে সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ অত্যন্ত প্রাচীন। এ সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক থিওরী আছে। তবে কথা হল এগুলো সবই থিওরী,কোনটিই প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য(ফ্যাক্ট) নয়। যথা-অপেরনের থিওরী, বিবর্তনবাদ প্রভৃতি।
তবে থিওরী যাই থাকুক না কেন, অনেক বিজ্ঞানীই বিশ্বাস করে পৃথিবীতে মানুষ তথা জীব জগতের উৎপত্তির পেছনে অলৌকিক কোন ব্যাপার আছে,কোন অজানা রহস্যময় শক্তির প্রভাব আছে। তাই প্রকৃত অর্থে বিজ্ঞান ঈশ্বরকে বিলুপ্ত করে না, বরঞ্চ প্রচলিত ঈশ্বরের ধারনা পাল্টে দেয়।
তাহলে আসুন দেখি প্রকৃতির আকস্মিকতায় বা বাইচান্স এ মানুষের উৎপত্তির ব্যাপারে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ…
১. জীব কোষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান প্রোটিন অনু।প্রোটিন হল অসংখ্য অ্যামিনো এসিডের সমন্বয়ে গঠিত বৃহৎ যৌগিক জৈব অনু। গড়পড়তা একটি সাধারণ প্রোটিন অনু প্রকৃতি হতে বাছাইকৃত প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান সমন্বয়ে সঠিক পরিমানে ও অনুপাতে রাসায়নিক বিন্যাসের মাধ্যমে গঠিত হয় তার সম্ভাবনা হিসাব করেছেন অনেক বিজ্ঞানী। এটা হিসাব করেছেন বায়োলজিস্ট ফ্র্যাংক স্যলিসবরী ,তুরস্কের বিবর্তনবিদ আলী ডেমিসেরী, বায়োলজিস্ট প্রফেসর হাবার্ট ইয়োকিসহ আরও অনেকে।
হিসাব মতে এ সম্ভাবনা হল মোটামুটি ১ বাই ১০ টু দি পাওয়ার ৯৫০। যারা বিজ্ঞানের ছাত্র তারা সম্ভাবনা কত ধরে ফেলেছেন। এর মানে এ সম্ভাবনা ০.০০০…এরকম ৯৪৯ টি শূন্য তারপর ১। একজন গনিতবিদ আপনাকে বলবে ১ বাই ১০ টু দি পাওয়ার ৫০ হলেই তা গনিতে শূন্য হিসেবে ধরা যায়। আর ভাবুন, এটা শুধু একটা অনু তৈরি হওয়ার হিসাব।
আর তার জন্য যে সময়ের প্রয়োজন তা হিসাব মতে, ১০ টু দি পাওয়ার ২৬৩ বছর। অর্থাৎ ১ এর পর ২৬৩ টি ০ বসালে যে সংখ্যা হয় তা । তার মানে, বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হওয়ার সময়ের চেয়েও অনেক অনেক বেশি সময়। আর এ সবই একটি মাত্র মলিকুল তৈরির জন্য। আর ভেবে দেখুন একটা কোষে কত প্রোটিন অনু থাকে আর প্রোটিন অনু ছাড়াও কত অন্যান্য অনু থাকে একটি কোষে । আর কতটি কোষ মিলে তৈরি হয় মানবদেহ।
একটি মানবশিশু যখন জন্মায় তখন তার দেহে থাকে প্রায় ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি মলিকুল থাকে। এসব ঘটনা আকস্মিকভাবে ঘটার সম্ভাবনা হিসেবাতীত ভাবে শূন্য।কোন সম্ভাবনাই নেই আকস্মিক ভাবে সৃষ্টি হওয়ার…। তাই বিজ্ঞান একথা স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে জীব জগত তথা মানব সৃষ্টিতে কোন ব্যাখ্যাতীত ব্যাপার আছে,কারও প্রোগামিং,কোন কিছুর নির্দেশনা আছে নিশ্চয়ই। (তথ্যসূত্র ১,২,৩,৪ ও অন্যান্য)
২. জার্মান বিজ্ঞানী রেইনহার্ড জাঙ্কার ও সিগফ্রিড স্কিরার ১৯৮৬ সালে জীব উৎপত্তিতে রাসায়নিক বিবর্তনের বিষয় ব্যাখ্যা করেন। তারা ব্যাখ্যা করেন প্রানের উদ্ভবের জন্য যে প্রয়োজনীয় উপাদান বাছাই হয়ে সমন্বয় হয়েছে এবং ক্ষতিকর উপাদান হতে রক্ষা পেয়েছে তা -অসম্ভব,অকল্পনীয়। (তথ্যসূত্র ৫)
৩. বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ক্রিক , যিনি জেমস ওয়াটসনের সাথে ডিএনএ এর ডাবল হেলিক্স মডেল আবিষ্কার করার জন্য ১৯৬৩ সালে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন, উপলব্ধি করেছেন এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এটা আশা করা যে, পৃথিবীতে জীবন আকস্মিক ভাবে সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি সহ আরও অনেক বিখ্যাত বিজ্ঞানী এটা ব্যাখ্যার জন্য নতুন এক থিওরীর কথা ভাবেন-এক্সট্রাটিরেসট্রিয়াল ইন্টিলিজেন্ট পাওয়ার অর্থাৎ অন্য কোথাও হতে সৃষ্ট প্রাণ পৃথিবীতে এসেছে।
৪. ব্রিটানিকা সায়েন্স এনসাইক্লোপিডিয়াতে বলা হয়েছে জীব কোষে অ্যামিনো এসিড ও প্রোটিনের বিন্যাস আকস্মিক হওয়ার সম্ভাবন কে মিলানো যায়- একটি কয়েনকে দশ লক্ষ বার টস করা হল আর প্রত্যেকবারই হেড পাওয়ার সম্ভাবনার সমান । একই জায়গায় বলা হয়, এটা বোঝা একদমই অসম্ভব যে, কেন অনু গুলো ডানবর্তী বা বামবর্তী হয়ে সঠিক বিন্যাসে থাকে। (তথ্যসূত্র ৬)
তাই বলা চলে বিজ্ঞান ঈশ্বরের ধারনা বিলুপ্ত করে না, ঈশ্বরের মডেল বিলুপ্ত করে। বরঞ্চ বিজ্ঞান দ্বারা ঈশ্বরের ধারনা যে ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় তা অন্য যে কোন কিছুর চেয়ে অনেক অনেক জোরালো।
আর এ ব্যাপারে আর একটি কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, একজন বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্টতাহীন ব্যক্তি যত সহজে নাস্তিক হতে পারে,বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট লোক তা হতে পারে না,কথাটা পরিসংখ্যানসহ উদাহরণ দিয়ে পরবর্তীতে পরিষ্কার করার আশা রেখে প্রথম পর্ব শেষ করলাম।( চলবে..)
তথ্যসূত্র:
1.Encarta reference library –Microsoft Corporation
2. H.P. Yockey, “A Calculation of the Probability of Spontaneous Biogenesis by Information Theory,” J. Theoretical Biology, (1977), 67, pp.337-398.
3. H.J. Morowitz, Energy Flow in Biology (Academic Press, New York, 1968), p. 99.
4. Inheritance and Evolution, Ali Demirsoy , Meteksan Yayinlari 1984
5.Reinhard Junker & Siegfried Scherer, “Entstehung Gesiche Der Lebewesen”, Weyel, 1986
6.Fabbri Britannica Science Encyclopaedia, Vol. 2 ,No. 22,
এন্টি নাস্তিকতা (২): বিবর্তনবাদ : কতটা বিবর্তিত ?
বর্তমান সময়ে নাস্তিকতার প্রধান ( কিংবা শক্তিশালী) বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হয়তো বিবর্তনবাদ। কেননা প্রধান-প্রমান-ধর্মগুলোর প্রত্যেকটিতে বলা হয়েছে মানবজাতি সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি, আর বিবর্তনবাদ সরাসরি এর বিরোধী। একটা সময় ছিল যখন এর ভিত্তি ছিল বস্তুবাদ , অর্থাৎ বিশ্বজগতের শুরু নেই শেষ নেই,যে যার মত নিয়ম বানিয়ে জীবনটা পার করলেই হল,ধর্ম মানার কোন দরকার কী।কিন্তু বস্তুবাদের দুর্বলতা ছিল জীবজগৎ-মানুষ কীভাবে সৃষ্টি হল সে সর্ম্পকে কোন ধারনা দেয় না, তাই যখন এর ব্যাখ্যা নিয়ে বিবর্তনবাদ এল,সাথে সাথে ধর্মবিরোধী সমাজের ভিত্তি হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা হয়ে যায়।
বিবর্তনবাদ মিডিয়ার কল্যানে এতটা জনপ্রিয় যে বিজ্ঞানের কিছুই জানেন না তারাও বলতে পারে -‘ডারউইন বলেছিল, মানুষ তো বাঁদর ছিল’ । মিডিয়ার জন্য এটা সবসময় হট টপিক। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হল ডারউইনের সময়ের পর অনেক দিন কেটে গেছে, এরমধ্যে ডারউইনের তত্ত্বের অসারতা প্রমান হওয়ায় বিজ্ঞানীরা নিওডারউইনিসম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে -সে তত্ত্বও এখন অস্তিত্বহীনতার সম্মুখীন,প্রাকৃতিক নির্বাচনের বদলে মিউটেশন তত্ত্ব এসেছে,ডিএনএ এর মডেল আবিষ্কার হওয়ার পর পুরো ধারনা হুমকির মুখে পড়েছে,বিবর্তন মতবাদ নিয়ে অনেকের অনেক জালিয়াতি ধরা পড়েছে কিন্তু এখনো অধিকাংশ মানুষ ডারউইনের অরিজিন অব স্পিসিস এর ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে আছে
বিবর্তনবাদ আমাদের দেশ সহ অনেক দেশে স্কুলে এবং মিডিয়ায় এমন ভাবে উপস্থাপিত হয় যেন এটি একটি বৈজ্ঞানিক সত্য(ফ্যাক্ট)।অথচ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত এমন কোন প্রকৃত সায়েন্সের বই নেই যেখানে বিবর্তনবাদকে ফ্যাক্ট বলা হয়, সব সময়ই থিওরী বা অ্যাসাম্পশন।আর যে কোন থিওরী যে কোন দিন মিথ্যা প্রমাণিত হতে পারে।
বিবর্তনবাদ বর্তমানে নাস্তিকতার ভিত্তি তা কেউ না মানলেও এটা না মেনে উপায় নেই এটি এর এর শক্তিশালী সাহায্যকারী ধারনা। ডারউইন যখন তার এ তত্ত্ব প্রচার করলেন তখন সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিল স্বভাবতই সমস্ত ধর্মবিরোধী মতবাদের অনুসারীরা। মার্কসবাদ,ফ্যাসিজম,ফ্রয়েডীতত্ত্ব অনুসারীরা যেন হাতে চাঁদ পেল। একটা উদাহরনে তা ভালো বোঝা যায়-
কার্ল মার্কস তার উপর এতই কৃতজ্ঞচিত্ত ছিল যে তার সর্বোত্তম কাজ বলে বিবেচিত-দাস কাপিটাল-উৎসর্গ করেছেন ডারউইনকে।
বিবর্তনবাদ বর্তমান সময়ে যতটা না বিজ্ঞানের তারচেয়ে বেশি মিডিয়ার সম্পত্তি। এটি অত্যন্ত চটকদার,মজারু আর এর প্রভাব অপরিসীম, এটি বিভিন্ন দেশে যত দ্রুত অনুদিত হয়ে পৌছেছে তার নজির খুব কম আছে। চীনে এর প্রভাব ছিল অসীম,ইউরোপের কথা ছেড়েই দিলাম। পরবর্তীতে এর যে বিরূপ প্রভাব দেশে দেশে পড়েছিল আমার ধারনা ডারউইনের মত জ্ঞানপিপাসু লোক যদি আগে তা আন্দ্াজ করতে পারত তাহলে কখনোই এরকম কোন বই লিখে যেতেন না। যুগে যুগে কোন যথার্থ প্রমান না থাকা সত্ত্বেও কিছু বিজ্ঞানী বিবর্তনবাদকে সমর্থন দিয়ে এসেছে কারন তারা জীব জগৎ সৃষ্টিতে- হয় অলৌকিক ভাবে প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বাস করতে হয় নইলে বিবর্তনবাদে আস্থা রাখতে হয়, তাদের ধারনা হয়তো কোন এক সময় এর পে প্রমান পাওয়া যাবে।এমনকি কেউ কেউ মরিয়া হয়ে মিথ্যা প্রচারণা ও কাল্পনিক চিত্র ও ধারনা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাও করেছে( যথা- পিল্টডাউন ম্যান-যেটি বিবর্তনবাদের প্রত্যক্ষ প্রমান হিসেবে ১৯১২ সাল থেকে ব্রিটিশ মিউজিয়মে প্রায় ৪০ বৎসর প্রদর্শিত হবার পর প্রমানিত হয় এটি একটি বিরাট জালিয়াতি,নেবারাস্কা ম্যান-প্রায় ৫ বৎসর মানুষ বিবর্তনবাদের প্রমাণ হিসেবে মাতামাতি করার পর ধরা পড়ে সেটা ধোঁকাবাজী,এ ধরনের জালিয়াতি নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনার ইচ্ছা রইল)
মাইকেল ওয়াকার যিনি ইউনিভার্সিটি অব সিডনী এর নৃতত্ত্ববিদ ছিলেন ব্যাখ্যা করেছেন কেন বিবর্তনবাদ এখনো প্রচার করা হচ্ছে, তিনি ১৯৮১ সালে তার এক লেখায় বলেছেন-অনেক বিজ্ঞানী এবং টেকনোলজিষ্ট ডারউইনের থিওরী প্রমানের চেষ্টা করে যাচ্ছেন তার একমাত্র কারন এটি সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে দূর করার চমৎকার মাধ্যম। (তথ্যসূত্র ১)
তাই সত্যিকার অর্থে বলা চলে ডারউইনিসম বা বিবর্তনবাদের ধারণা ধ্বংশ হয়ে গেলে ধর্মবিরোধী মতবাদ গুলো এতটা বিপত্তিতে পড়বে যে ধারণাও করা যায় না।এখন থেকে পরবর্তী কয়েকটা পোষ্টে আমি তাই এ বিবর্তনবাদ নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের মত নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব।
মিডিয়ার প্রভাবে সাধারণ লোকজন ও আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্টতাহীন মানুষ জানে না যে শত শত বিখ্যাত বিজ্ঞানী,গবেষক রয়েছেন যারা বিবর্তনবাদকে ইতোমধ্যে অচল ও অর্থহীন বলে ছুড়ে ফেলেছেন বহু আগে । আজকে তাহলে দেখা যাক বিভিন্ন বিজ্ঞানী ও গবেষক যারা বিবর্তনবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তাদের
মন্তব্য-
১. প্রথমে দেখি বিবর্তনবাদ নিয়ে স্বয়ং ডারউইন কী বলেছেন। যারা ডারউইনের অরিজিন অব স্পিসিস বইটা পড়েছেন তারা জানেন এ বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের নাম ’ ডিফিকালটিস অন থিওরী’। অর্থাৎ বিবর্তনবাদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কী কী ব্যাখ্যাতীত সমস্যা রয়েছে তা আলোচনা করেছেন। ডারউইনের আশা ছিল ভবিষ্যতে হয়তো এসব ব্যাপারের ব্যাখ্যা মিলবে, কিন্তু যতই দিন গেল এসব সমস্যা আসলে ততই প্রকট হল,সেসব সমস্যার সমাধান আজ পর্যন্ত হয় নি। ডারউইন পরবর্তীতে নিজেই উপলব্ধি করলেন তার থিওরীতে এত বিভ্রান্তি রয়েছে যে সেসব থেকে বের হয়া যাবে না, তিনি তার বন্ধুদের কাছে বিভিন্ন চিঠিতে লেখেন তিনি দিন দিন তার থিওরীর উপর আস্থা হারাচ্ছেন। ডারউইনের ছেলে ফ্রান্সিস ডারউইন ডারউইনের চিঠিপত্র সংকলন করে বই প্রকাশ করেন -লাইফ অ্যান্ড লেটারস অব চার্লস ডারউইন- সেখানে দেখা যায় অধিকাংশ নিকট বন্ধু ও বিজ্ঞানীদের কাছে লেখা চিঠিতে ডারউইন তার থিওরী নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন । তিনি হার্ভাড ইউনিভার্সিটির বায়োলজির প্রফেসর অ্যসা গ্রে কে এক চিঠিতে লেখেন-আমি চিন্তিত যে আমার কাজ গুলো সত্যিকারের বিজ্ঞান থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। (তথ্যসূত্র ২,৩)
২. ফ্রেঞ্চ একাডেমী অব সায়েন্স এর একসময়কার প্রেসিডেন্ট পি পি গ্রাসে বিবর্তনবাদ নিয়ে লেখা-ইভলিউশন অব লিভিং অরগানিজমস-বইয়ের লেখক, তিনি বলেছেন- আজ আমাদের কর্তব্য বিবর্তনবাদের রূপকথাকে ধ্বংস করে ফেলা..বিবর্তনবাদের এ প্রতারণা কখনো অজান্তেই হচ্ছে আবার কিছু দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এর অবাস্তবতা অস্বীকার করছে।(তথ্যসূত্র ৪)
৩. এটা তাৎপর্যপূর্ণ যে ছাত্রাবস্থায় আমি যত বিবর্তনবাদের ব্যাপারে জেনেছি..এখন তার সবই তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছি।-বলেছেন প্রফেসর ডেরেক অ্যাজের , সাবেক প্রেসিডেন্ট অব ব্রিটিশ অ্যাসেসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্চমেন্ট অব সায়েন্স এবং সোয়নসী ইউনির্ভাসিটির জিওলজি ও ওশানোগ্রাফি বিভাগের প্রধান। (তথ্যসূত্র ৫)
৪. পল লেমোনি, প্যারিসের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিষ্ট্রি এর সাবেক ডিরেক্টর বলেছেন-
ইভোলিউশন থিওরী আজ পুরো পৃথিবীতে ছাত্রদের শেখানো হচ্ছে অথচ জুলজি, বোটানি প্রভৃতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ গণ এ বিষয়ে একমত যে বিবর্তনবাদের কারও কাছে কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।…এর ফলাফল বলে যে ইভোলিউশন থিওরী সম্পূর্ন অসম্ভব।(তথ্যসূত্র ৬)
৫. কোষ জেনেটিকসের অধ্যাপক ফ্রান্সিস জ্যাকব,১৯৬৫ সালে যিনি মেডিসিনের গবেষণার জন্য নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন তিনি বলেছেন- বিবর্তনের ক্রিয়ার মাধ্যমে কোন বিশেষ বিষয়ের সিদ্ধান্তে আসতে আমরা অসমর্থ।(তথ্যসূত্র ৭)
৫. ডা. কলিন প্যার্টাসন একজন বিবর্তনবিদ এবং প্যালিয়নটোলজিস্ট ( জীবাশ্মবিদ), তিনি লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের কিউরেটর এবং মিউজিয়ম জার্নালের সম্পাদক, বিবর্তন নিয়ে তার লেখা একাধিক বই আছে, তার বিখ্যাত বই -ইভলিউশন। ১৯৮১ সালে তিনি তার Evolution and Creationism: Can You Tell Me Anything About Evolution? বইতে লেখেন-গত বছর আমার হঠাৎ উপলব্ধি হল গত বিশ বছর ধরে আমি বিবর্তন নিয়ে কাজ করেছি,অথচ এ নিয়ে আমার কাছে একটাও প্রমাণ নেই। এটা আমাকে হতবিহ্বল করে দিল যে কী করে মানুষ এতটা দিন ভুল পথ ধরে এগিয়েছে। পরবর্তী কয়েকসপ্তাহ আমি বিভিন্ন সভায় এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে একটি সহজ প্রশ্ন করেছি, আপনারা কেউ কি একটা কিছু বলতে পারেন বিবর্তনবাদের পক্ষে শুধুমাত্র একটা উদাহরণ কি কেউ দিতে পারেন যা সত্য। যার একটা উত্তরই আমি পেয়েছি তা হল -নীরবতা। এ প্রশ্ন আমি করেছি ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ইভোলিউশনারী মরফোলজি সেমিনারের মেম্বারদের কাছে-অনেকক্ষণ নীরবতার পর বিবর্তনবাদ নিয়ে উচুপর্যায়ের এক ব্যক্তি বললেন-আমি শুধু আপনাকে এটা বলতে পারি এ বিষয়টা স্কুল কলেজে পড়ানো ঠিক নয়।’(তথ্যসূত্র ৮)
তথ্যসূত্র:
1.Dr. Michael Walker, “Evolved Or Not, That’s the Question,” Quadrant, October, 1981, p. 45.
2.On the Origin of Species By Charles Darwin, October 1st, 1859.
3.N.C. Gillespie, Charles Darwin and the Problem of Creation, University of Chicago, 1979, p. 2.
4.Pierre Paul Grassé, Evolution of Living Organisms, New York: Academic Press, 1977, p. 8.
5. Derek Ager, “The Nature of the Fossil Record.” Proceedings of the Geological Association, Vol. 87, No. 2, 1976, p. 132.
6. Introduction: De (Evolution), Encyclopedie Française, Vol. 5 (1937) p. 6.
7. François Jacob, Le Jeu des Possibles [“The Play of Possibilities”], Paris: LGF, 1986.
8. Dr. Colin Patterson, “Evolution and Creationism: Can You Tell Me Anything About Evolution?”November 1981 Presentation at the American Museum of Natural History, New York City
হাদিস বিষয়ক ওয়েবসাইট :: বোখারী ও মুসলিম শরীফ এখন আপনার হাতের কাছেই।
হাদিস বিষয়ক ওয়েবসাইট :: বোখারী ও মুসলিম শরীফ এখন আপনার হাতের কাছেই।
একটি হাদিসের নমুনাঃ
বইয়ের নাম: বোখারী শরীফ
খন্ড নং: ১
বিষয় নামায
হাদিস নং: ২৪১
পৃষ্ঠা নং: ২২২
মুগিরা (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন এক ছফরে আমি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে বলিলেন, পানির পাত্র লও, আমি উহা লইলাম, রাসুলুল্লাহ (দঃ) নির্জন স্থানের দিকে যাইতে লাগিলেন এবং আমার অদৃশ্যে চলিয়া গেলেন। তারপর তিনি হাজত পুরা করিয়া ফিরিয়া আসিলেন এবং অজু করিতে লাগিলেন। আমি অজুর পানি ঢালিয়া দিতে ছিলাম। তাঁহার পরিধানে সিরিয়া দেশের তৈরী একটি জুব্বা ছিল। উহার আস্তিনের মুহরী সক ছিল, তাই উহা টানিয়া কনুই-এর উপর উঠানো সম্ভব হইল না, সে জন্য হস্তদয় ভিতর দিক হইতে টানিয়া উহা হইতে বাহির করিয়া লইলেন এবং পূর্ণ অজু করিয়া পা ধোয়ার পরিবর্তে চামড়ার মোজার উপর মছেহ করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন। হযরত (দঃ) শাম দেশের তৈরী জুব্বা পরিহিত ছিলেন; সে কালে শাম দেশের অধিবাসী অমোসলেম ছিল।
এরকম অসংখ্য হাদিসের কথা এখন আমরা খুব সহজেই নিন্মোক্ত সাইটগুলো থেকে পাব।
http://www.islamhouse.com/p/177601
বাংলা উইকিপিডিয়াতে হাদিস সম্পর্কে
http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%
E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B8
http://hadithshareef.org/
http://banglahadith.com/
এই সাইটটিতে রয়েছেঃ
* বোখারী শরীফ
* মুসলিম শরীফ
নোটঃ বামপাশের সবার উপরের লিংক ২টোই হল বোখারী শরীফ মুসলিম শরীফ এর হাদিসের লিংক
গতকাল আমার পবিত্র কোরআন নিয়ে পোস্টটা পরে বিশাল ভাই হাদিসের
ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, যার ফলশ্রুতিতেই আজকের এই আয়োজন।
একটি হাদিসের নমুনাঃ
বইয়ের নাম: বোখারী শরীফ
খন্ড নং: ১
বিষয় নামায
হাদিস নং: ২৪১
পৃষ্ঠা নং: ২২২
মুগিরা (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন এক ছফরে আমি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহে অসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাকে বলিলেন, পানির পাত্র লও, আমি উহা লইলাম, রাসুলুল্লাহ (দঃ) নির্জন স্থানের দিকে যাইতে লাগিলেন এবং আমার অদৃশ্যে চলিয়া গেলেন। তারপর তিনি হাজত পুরা করিয়া ফিরিয়া আসিলেন এবং অজু করিতে লাগিলেন। আমি অজুর পানি ঢালিয়া দিতে ছিলাম। তাঁহার পরিধানে সিরিয়া দেশের তৈরী একটি জুব্বা ছিল। উহার আস্তিনের মুহরী সক ছিল, তাই উহা টানিয়া কনুই-এর উপর উঠানো সম্ভব হইল না, সে জন্য হস্তদয় ভিতর দিক হইতে টানিয়া উহা হইতে বাহির করিয়া লইলেন এবং পূর্ণ অজু করিয়া পা ধোয়ার পরিবর্তে চামড়ার মোজার উপর মছেহ করিলেন, তারপর নামায পড়িলেন। হযরত (দঃ) শাম দেশের তৈরী জুব্বা পরিহিত ছিলেন; সে কালে শাম দেশের অধিবাসী অমোসলেম ছিল।
এরকম অসংখ্য হাদিসের কথা এখন আমরা খুব সহজেই নিন্মোক্ত সাইটগুলো থেকে পাব।
http://www.islamhouse.com/p/177601
বাংলা উইকিপিডিয়াতে হাদিস সম্পর্কে
http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B9%E0%A6%BE%
E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B8
http://hadithshareef.org/
http://banglahadith.com/
এই সাইটটিতে রয়েছেঃ
* বোখারী শরীফ
* মুসলিম শরীফ
নোটঃ বামপাশের সবার উপরের লিংক ২টোই হল বোখারী শরীফ মুসলিম শরীফ এর হাদিসের লিংক
গতকাল আমার পবিত্র কোরআন নিয়ে পোস্টটা পরে বিশাল ভাই হাদিসের
ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, যার ফলশ্রুতিতেই আজকের এই আয়োজন।
Does God Exist?
An atheist professor of philosophy speaks to his class on the problem science has with God, The Almighty. He asks one of
his new students to stand and…..
Prof: So you believe in God?
Student: Absolutely, sir.
Prof: Is God good?
Student: Sure.
Prof: Is God all-powerful?
Student : Yes.
Prof: My brother died of cancer even though he prayed to God to heal him. Most of us would attempt to help others who are ill. But God
didn’t. How is this God good then? Hmm?
(Student is silent.)
Prof: You can’t answer, can you? Let’s start again, young fella. Is God good?
Student :Yes.
Prof: Is Satan good?
Student : No.
Prof: Where does Satan come from?
Student : From…God…
Prof: That’s right. Tell me son, is there evil in this world?
Student : Yes.
Prof: Evil is everywhere, isn’t it? And God did make everything.
Correct?
Student : Yes.
Prof: So who created evil?
(Student does not answer.)
Prof: Is there sickness? Hatred? Ugliness? All these terrible things exist in the world, don’t they?
Student :Yes, sir.
Prof: So, who created them?
(Student has no answer.)
Prof: Science says you have 5 senses you use to identify and observe the world around you. Tell me, son…Have you ever seen God?
Student : No, sir.
Prof: Tell us if you have ever heard your God?
Student : No , sir.
Prof: Have you ever felt your God, tasted your God, smelled your God? Have you ever had any sensory perception of God for that matter?
Student : No, sir. I’m afraid I haven’t.
Prof: Yet you still believe in Him?
Student : Yes.
Prof: According to empirical, testable, demonstrable protocol, science says your GOD doesn’t exist. What do you say to that, son?
Student : Nothing. I only have my faith.
Prof: Yes. Faith. And that is the problem science has.
Student : Professor, is there such a thing as heat?
Prof: Yes.
Student : And is there such a thing as cold?
Prof: Yes.
Student : No sir. There isn’t.
(The lecture theatre becomes very quiet with this turn of events.)
Student : Sir, you can have lots of heat, even more heat, superheat, mega heat, white heat, a little heat or no heat. But we don’t have anything called cold. We can hit 458 degrees below zero which is no heat, but we can’t go any further after that. There is no such thing as cold. Cold is only a word we use to describe the absence of heat. We cannot measure cold. Heat is energy. Cold is not the opposite of heat, sir, just the absence of it.
(There is pin-drop silence in the lecture theatre.)
Student : What about darkness, Professor? Is there such a thing as darkness?
Prof: Yes. What is night if there isn’t darkness?
Student : You’re wrong again, sir. Darkness is the absence of something. You can have low light, normal light, bright light, flashing light…. But if you have no light constantly, you have nothing and it’s called darkness, isn’t it? In reality, darkness isn’t. If it were, you would be able to make darkness darker, wouldn’t you?
Prof: So what is the point you are making, young man?
Student : Sir, my point is your philosophical premise is flawed.
Prof: Flawed? Can you explain how?
Student : Sir, you are working on the premise of duality. You argue
there is life and then there is death, a good God and a bad God. You are viewing the concept of God as something finite, something we can measure. Sir, science can’t even explain a thought. It uses electricity and magnetism, but has never seen, much less fully understood either one. To view death as the opposite of life is to be ignorant of the fact that death cannot exist as a substantive thing. Death is not the opposite of life: just the absence of it. Now tell me, Professor. Do you teach your students that they evolved from a monkey?
Prof: If you are referring to the natural evolutionary process, yes, of course, I do.
Student : Have you ever observed evolution with your own eyes, sir?
(The Professor shakes his head with a smile, beginning to realize where the argument is going.)
Student : Since no one has ever observed the process of evolution at work and cannot even prove that this process is an on-going, are you not teaching your opinion, sir? Are you not a scientist but a preacher?
(The class is in uproar.)
Student : Is there anyone in the class who has ever seen the Professor’s brain?
(The class breaks out into laughter.)
Student : Is there anyone here who has ever heard the Professor’s brain, felt it, touched or smelled it?…..No one appears to have done so. So, according to the established rules of empirical, stable, demonstrable protocol, science says that you have no brain, sir.
With all due respect, sir, how do we then trust your lectures, sir?
(The room is silent. The professor stares at the student, his face unfathomable.)
Prof: I guess you’ll have to take them on faith, son.
Student : That is it, sir.. The link between man & god is FAITH. That is all that keeps things moving & alive.
You know who this young man was?
———————-
ALBERT EINSTEIN.
———————-
তপ্তকাঞ্চনের ‘ইসলামী শরিয়ত বনাম বাংলাদেশ আইন’ (পর্ব ১) পোষ্টের মন্তব্য.. “ইসলামে তালাক কথা”
তপ্তকাঞ্চন ভাইয়ের পোষ্টে মন্তব্যটা ছোট আকারেই করবো ভেবেছিলাম। লেখা শেষ হতে দেখি বড় হয়ে গেছে। তাই ভাবলাম ভিন্ন পোষ্টে বিষয়টা তুলে ধরি, এতে হয়তো অনেকেই তা পড়ার সুযোগ পাবেন।
।১।
স্বামীর অত্যাচারে বা অন্য কোন কারণে স্ত্রীর অপছন্দ থাকলে স্বামীর সাথে খুলা’ (خلع) করার বিধান ইসলামে আছে। খুলা’ করার নিয়মটা হলো এই যে, স্ত্রী স্বামীকে মোহরানার টাকাটা ফেরৎ দেওয়ার শর্তে কিংবা অন্য কোন অংক দেওয়ার শর্তে স্বামীকর্তৃক বিবাহ বন্ধন ছেদ করিয়ে নিবে। স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিক্রমে কৃত এই ব্যাপারটি এক তালাকে বায়েন হিসেবে গণ্য হবে। পরবর্তীতে উভয়ে পুণরায় একে অপরকে গ্রহণ করতে চাইলে নতুন করে বিবাহ করতে হবে।
খুলা’ অর্থ খোলা। এর দ্বারা রূপক অর্থে বিবাহের পরিচ্ছদ খুলে ফেলা হয় তাই খুলা’ বলা হয়। আবার তালাকের অর্থও এর কাছাকাছি। সম্ভবত এ থেকেই এ দেশের মুসলিম পারিবারিক আইনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুসলিম পারিবারিক আইনে খুলা’ -র ভিন্ন অধ্যায় থাকায় এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে হচ্ছে। কাজেই খুলা’ ছাড়া স্ত্রীকে ভিন্ন ভাবে তালাকের ক্ষমতা দেওয়াকে ‘ইসলাম সম্মত নয়’ বলতেই হচ্ছে।
।২।
এখানে বলে নেওয়া ভালো যে, ইসলাম যেমন ভাবে স্ত্রীকে কেবল স্বামীর অত্যাচারের সময় কিংবা একান্ত বনিবনা না হওয়ার ক্ষেত্রে খুলা’ করার অনুমতি দিয়েছে, তেমনি স্বামীকেও স্ত্রীর চূড়ান্ত অবাধ্যতা ও সবরকম চেষ্টার পরও বনিবনা না হওয়ার ক্ষেত্রে তালাক দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। সাথে সাথে বারবার এ ঘোষণা দিয়ে রেখেছে যে, “আল্লাহর নিকট সর্ব নিকৃষ্ট বৈধ বিধান হলো তালাক।” (হাদীস) কাজেই যত্রতত্র তা ব্যবহার করা থেকে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
।৩।
একটা প্রসঙ্গ প্রায়ই আলোচিত হয় যে, রাগের মাথায় স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে আর ফতোয়াবাজ মৌলভীরা স্ত্রীকে হিল্লা বিবাহে বাধ্য করছে। অমানবিক। মানবতাবিরোধী.. সত্যিই তো..
কিন্তু কথা হচ্ছে, আপনি যদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন যে, ইসলাম কেন এমন কঠিন নির্দেশ দিয়েছে, তা হলেই এর যথার্থতা যথার্থ ভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন।
ইসলাম বারবার স্বামীকে সতর্ক করেছে যেন সে তার প্রেয়সী স্ত্রীর সাথে নূন্যতম খারাপ আচরণ না করে। ঘোষণা দিয়েছে, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে-ই, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” (হাদীস) উপদেশ দিয়েছে, “দেখো, যদি তুমি তার (স্ত্রীর) একটি আচরণে অসন্তুষ্ট হও, তা হলে তার অন্য কোন আচরণ নিশ্চয় তোমাকে মুগ্ধ করবে। ফলে সে দিকে লক্ষ্য করে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখো।” (হাদীসের মর্মার্থ) এভাবে বারবার বিভিন্ন ভাবে স্বামীকে ভালো আচরণ করার নির্দেশ দিয়ে বলেছে, একান্তই যদি তোমার সাথে মিল না হয় তবে তাকে বোঝাও।
এতেও না হলে একই খাটে আলাদা আলাদা শয়ন করো। এরপর ভিন্ন খাটে শোও। অতপর ভিন্ন ঘরে… এভাবেও ঠিক না হলে উভয় পরিবারের লোক দিয়ে মিটমাট করার চেষ্টা করো।
এরপর একেবারেই নিরুপায় হলে কেবল এক তালাক দাও। এরপর অপেক্ষা করো এক মাস। এর মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেলে বিনা বিবাহেই তাকে গ্রহণ করতে পার।
নতুবা এক মাস পর আরেক তালাক দাও। এবারো সব ঠিক হয়ে গেলে বিনা বিবাহে তাকে গ্রহণ করে নিতে পার। (তালাকে রাজঈর ক্ষেত্রে। বায়েন তালাকের ক্ষেত্রে নতুন বিবাহ লাগবে।)
এরপরও যদি বনিবনা না হয়, তা হলে এক মাস পর শেষ তালাক দিতে পার। তবে এটার পর স্ত্রীকে গ্রহণ করা আর সহজ হবে না। তখন হিল্লা বিবাহ লাগবে।
দেখুন, এতগুলো স্তর পেরিয়ে আসলে কেউ কি সত্যিই তিন তালাক দিবে? স্তরগুলো আমার বানানো নয়। কুরআন এবং হাদীসের সার নির্যাস এগুলো।
নারীর মর্যাদা ধরে রাখার জন্যই ইসলামের এ বিধান। নারী যেন খেলনার বস্তুতে পরিণত না হয়, যেন যখন তখন তাকে স্বামী ছেড়ে দিতে না পারে, আবার যখন তখন তাকে গ্রহণ করতে না পারে, এ জন্যই এ বিধান।
কোন স্বামী যদি কল্পনা করে যে, আমি তিন তালাক দিলে আমার স্ত্রীকে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বসতে হবে। তারপর তার সাথে তাকে শুতে হবে। এরপর সে তালাক দিলে আমি তাকে পুণরায় গ্রহণ করতে পারব। এত কিছু নয়, শুধু এটুকু ভাবলেই যথেষ্ট যে, ‘আমার প্রেয়সীকে পর পুরুষের সাথে রাত কাটাতে হবে’, এটুকু ভাবলেই কোন পুরুষত্বের অধিকারী পুরুষ আর তিন তালাক দিতে পারে না।
বর্তমানে মুসলিম পারিবারিক আইনে মৌখিক তালাককে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা দিয়ে মূলত নারীকে খেলনার পাত্র বানানো হয়েছে, যা ইসলামের মেজাজের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এতে হয়েছে কী, স্বামী যখন ইচ্ছে স্ত্রীকে তালাক দিচ্ছে, আবার সে রাতেই তার সাথে মিলিত হচ্ছে… কত ঘৃণার ব্যাপার… ছি..
অতএব, এখন যে সচেতনতা চলছে যে, “মৌখিক তালাক দিলে তা কার্যকরী হবে না। মেম্বার চেয়ারম্যানের সার্টিফিকেট ইত্যাদি লাগবে”, তার চেয়ে বরং “তিন তালাক দিলে স্ত্রীকে পর পুরুষের সাথে শুতে হবে” এ সচেতনতা বাড়ানো দরকার। বর্তমান সচেতনতায় তিন তালাকের সংখ্যা বাড়ছে এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পাপ ও পাপীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারী পরিণত হচ্ছে স্বামীর হাতের খেলনা।
আর তিন তালাকের ভয়াবহতার সচেতনতা বাড়ালে তিন তালাকের সংখ্যাও কমবে, নারীর মর্যাদাও বাড়বে। বিষয়টি উপলব্ধি করা দরকার গভীর ভাবে।
।৩।
একটি কথা প্রায়ই শুনি, রাগের মাথায় স্বামী তালাক দিয়ে ফেলেছে.. আরে ভাই, তালাক তো রাগের মাথায়ই দেয়, সোহাগের সুরে কি কখনো তালাক থাকে?
——————————————————
৫-১০ মিনিটের উপস্থিত টাইপিংয়ের ফসল এটি। তাই কোন রেফারেন্স যুক্ত করতে পারিনি। তবে ভবিষ্যতে এ নিয়ে তথ্যনির্ভর একটি পোষ্ট দেওয়ার ইচ্ছে আছে। সবার কাছে দু’আ চাচ্ছি। ধন্যবাদ।
নামাজের তাসবিহ সমুহের বাংলা অনুবাদ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আমরা প্রতিদিন নামাজ পড়ি,কিন্তু নামাজে কি বলছি,কি করছি তা কিছুই জানি না।অধিকাংশ মানুষই নামাজে যে সুরা সমুহ ও তাসবিহ গুলো পড়ছে তার অর্থ জানেনা।যার কারনে নামাজে অমনযোগী হয়।মনে হয় যে তোতা পাখির মত শুধু বলেই যাচ্ছি,কিন্তু কি বলছি কিছুই জানি না,তাহলে নামাজের মাঝে আল্লাহর প্রতি বিনয়,শ্রদ্ধা,ভয়,আত্ম-সমর্পন আসবে কিভাবে?অথচ আল্লাহ সুবহানাতা’আলা বলেছেন “ধবংস ওই নামাজি যে তার নামাজ সম্পর্কে বেখবর।”
নামাজে মনোযোগ আনতে হলে অবশ্যই নামাজে কি কি করছি তার অর্থ ভাল ভাবে জানতে হবে বুঝতে হবে। আপনাদের সুবিধার জন্য আমি নামাজের তাসবিহ সমুহের বাংলা দিলাম,আশা করি আপনাদের বুঝতে সহায়তা করবে।
নিয়তঃ
“আমি কিবলামুখি হয়ে (ফজর /যোহর/আসরের ………) দুই/তিন/চার রাকাত ফ রয/ওয়াজিব/সুন্নত/নফল আদায়ের উদ্দেশ্য নিয়ত করলাম” তারপর “আল্লাহু আকবার”(আল্লাহ মহান) বলে দুহাত বাধতে হবে।শুরু হয়ে গেল নামাজ।
ছানাঃ
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা বিহামদিকা(সমস্ত প্রশংসা পবিত্র আল্লাহ’র জন্য) ওয়াতাবারা কাসমুকা(তোমার নাম বব্রকতময়) ওয়াতা আলা জাদ্দুকা(তুমি মহান মর্যাদার অধিকারি) ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা(তুমি ব্যতিত অন্য কোন উপাস্য নেই)।
তাআ’উযঃ
আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম (আল্লাহ’র কাছে পানাহ চাচ্ছি বিতারিত শয়তান থেকে)
তাসমিয়াঃ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম(পরম করুনাময় আল্লাহ’র নামে শুরু করছি)
তারপর সুরা ফাতিহা এবং অন্য সুরা মিলিয়ে পরতে হবে। “আল্লাহু আকবার” বলে রুকুতে যাবে।
রুকু’র তাসবিহঃ
সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম (আমার মহান মর্যাদাশীল প্রভুর পবিত্রতা বর্ননা করছি)
রুকু থেকে দাঁড়িয়ে তাসমি পাঠ করবে। তাসমিঃ
সামি আল্লাহুলিমান হামিদাহ (যে আল্লাহ’র প্রশংসা করে তিনি তা শোনেন)
তারপর তাহমিদঃ রাব্বানা লাকাল হামদ(সকল প্রশংসা আল্লাহ’র জন্য)
তারপর সিজদা। সিজদার সময় পরিপুর্ন ভাবে খেয়াল রাখবে যে, আমি আল্লাহ’র কাছে পুর্নভাবে আত্মসমর্পন করছি।
সিজদার তাসবিহঃ
সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা (আমার শ্রেষ্ঠ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ননা করছি)
এভাবে নামাজের দু’রাকাত শেষে তাশাহুদ এবং চার রাকাত শেষে তাশাহুদের সাথে দুরুদ শরিফ ও দুয়া মাছুরা পরতে হয়।
তাশাহুদঃ
আত্ত্যাহ্যিয়াতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত্তায়্যিবাতু(কি মৌখিক,কি দৈহিক,কি আর্থিক সকল ইবাদাত এক মাত্র আল্লাহ’র জন্য)আসসালামু আলাইয়কা আইয়্যহান্নবিও ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহু(হে নবী, আপনার উপর আল্লাহ’র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সোয়ালেহিন(আমাদের উপর এবং সৎকর্মশীল বান্দাদের উপর আল্লাহ’র শান্তি বর্ষিত হোক)আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসুলুহু (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতিত অন্য কোন ইলাহ নেই,আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ(সাঃ) আল্লাহ’র বান্দা ও রাসুল)
দুরুদ শরীফঃ
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়ালা আলি ইব্রাহিম,ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
(হে আল্লাহ মুহাম্মাদ(সাঃ) ও তার বংশধরদের উপর তোমার অনুগ্রহ বর্ষন কর যেভাবে ইব্রাহিম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর অনুগ্রহ করেছিলে।নিশ্চয় তুমি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত)
আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়ালা আলি ইব্রাহিম,ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
(হে আল্লাহ মুহাম্মাদ(সাঃ) ও তার বংশধরদের উপর তোমার বরকত বর্ষন কর যেভাবে ইব্রাহিম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর বরকত বর্ষন করেছিলে।নিশ্চয় তুমি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত)
আল্লাহুম্মা ইন্নি যালামতু নাফসি জুল মান কাসিরাও, ওয়ালা ইয়াগ ফিরুজ্জনুবাকা, ইল্লা আন্তা ফাগফিরালি মাগফিরাতাম্মিন ইন্দিকা ওয়ারহামনি,ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।
(হে আল্লাহ,আমি আমার আত্মার উপর ক্ষতি সাধন করেছি,মাফ করার সাধ্য কারোর নাই (তুমি ব্যতিত),তুমি আমাকে সম্পুর্নরুপে মাফ করে দাও ও দয়া করো, নিশ্চয়ই তুমি পরম ক্ষমাশীল ও দয়ালু)
কোন ভুল-ভ্রন্তি হলে আল্লাহ আমায় ক্ষমা করুন। আল্লাহ আমাদের খাটি ভাবে আত্ম-সমর্পন করে নামাজ পড়ার তওফিক দিন। আমিন।